আজ শুভ মধু পূর্ণিমা। বর্ষাবাসের দ্বিতীয় পূর্ণিমা তিথি ভাদ্র মাসে এই পূর্ণিমা উদযাপিত হয়। মূলত, এটি ভাদ্র পূর্ণিমা যা ‘মধু পূর্ণিমা’ নামে বহুল পরিচিত।
দিনটি বৌদ্ধরা- বিহার আলোকসজ্জা, বুদ্ধপূজা, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, অষ্টশীল পালন, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান, ধর্ম শ্রবণ, দেশ ও বিশ্বশান্তি কামনায় সমবেত উপাসনাসহ নানান কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে পালন করে থাকেন।
প্রসঙ্গত, বুদ্ধের তখন নবম বর্ষাবাস। বুদ্ধ নবম বর্ষাবাস কৌশাম্বীতে যাপন করেন। সেসময় জৈনক বিনয়ধর ও সূত্রধর দুইজন ভিক্ষুর বিরোধের জের ধরে সমগ্র ভিক্ষুসংঘ দ্বিধা-বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। বুদ্ধ তাদেরকে হিতোপদেশের মাধ্যমে শান্ত করার চেষ্টা করলেও তারা বুদ্ধের কথায় কর্ণপাত করেননি। তাই বুদ্ধ কিছু সময় একাকী নির্জনে থাকার সিদ্ধান্ত নিলেন। দশম বর্ষাবাস বুদ্ধ পারিলেয়্য বনের ভদ্রশাল বৃক্ষমূলে যাপন করেন। সেই পারিলেয়্য বনে এক হস্তীরাজও তার যুথের হস্তী, হস্তীনী, তরুণহস্তী ও হস্তীশাবকের দ্বারা উপদ্রুত হয়ে বাস করছিল। সেই হস্তীরাজও যুথ পরিত্যাগ করে ঘটনাচক্রে বুদ্ধের নিকট উপস্থিত হল। বুদ্ধকে দেখে হাতির ভেতরে প্রবল শ্রদ্ধা উৎপন্ন হল। সে স্থানটি পরিস্কার করে দিল। বুদ্ধের জন্য পানীয় পরিভোগ্য জল আহরণ করে আনল। বুদ্ধের খাবার সময় হলে বনের ফলমূল সংগ্রহ করে আনত। রাতে মশাল জ্বেলে চারদিকে ঘুরে ঘুরে পাহারা দিত। এভাবে সে বুদ্ধসেবায় মগ্ন ছিল। হাতির এমন বুদ্ধ সেবা দেখে এক বানর রাজের খুব ইচ্ছে হল বুদ্ধকে কিছু দান করার। তার ঘটনাও হস্তীরাজের ঘটনার মতো। সেও তার দল পরিত্যাগ করে এখানে এসে হাজির হয়েছে। বানররাজ দেখল তার অদূরে একটি মৌচাক। মৌচাকটি নিয়ে সযতনে মধুপোঁকামুক্ত করে বানররাজ বুদ্ধকে মধু দান করল। বুদ্ধ বানররাজের দানকৃত মধু পান করলেন। বানরের মধ্যে সে কি আনন্দ! সেদিন ছিল ভাদ্র পূর্ণিমা তিথি।
হাতি আর বানর এই দুইটি তির্যক প্রাণী কর্তৃক বুদ্ধকে সেবা এবং দান এক নজিরবিহীন ঘটনা! এই মিষ্টি-মধুর স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য বৌদ্ধরা আজও ভাদ্র পূর্ণিমা তিথিতে ভিক্ষুসংঘকে মধুদান দিয়ে দিনটিকে উদযাপন করে থাকেন।







