মারমা স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় উত্তেজনার মধ্যে খাগড়াছড়ির গুইমারায় ১৪৪ ধারা ভেঙে সহিংসতা হয়েছে, নিহত হয়েছেন অন্তত তিনজন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিহতরা সবাই ‘পাহাড়ি’; তবে তাদের কারো পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
মারমা এক কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের প্রতিবাদে শনিবার ভোর থেকে ‘জুম্ম-ছাত্র জনতা’র ব্যানারে অবরোধের কারণে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি, খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
জেলার বিভিন্ন স্থানে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে বিক্ষোভের মধ্যে পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় শনিবার দুপুর থেকে অনিদিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।
অবরোধ চলাকালে রোববার বেলা ১টার দিকে উপজেলার ‘রামেসু বাজারে’ আগুন দেওয়া হয়। আগুনে বাজারের বেশ কয়েকটি দোকান পুড়ে যায় এবং বাজারের পাশে থাকা বসতঘরও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বাজারটি চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়ক থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে। সেখানে আগুন দেওয়ার ভিডিও ও ছবি ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে আগুনে বাজারের দোকানপাট জ্বলতে দেখা যায়। বাজারের দোকানমালিকদের অধিকাংশেই পাহাড়ি। তারা এ ঘটনার জন্য ‘সেটলারদের’ দায়ী করছেন।
ওই ঘটনার পর থমথমে পরিস্থিতির মধ্যে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কের কাছে অবরোধকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষ বাঁধে। পরে সেখান থেকে তিনজনের লাশ নেওয়া হয় খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে।
রাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “গুইমারা উপজেলায় দুষ্কৃতকারীদের হামলায় তিন জন পাহাড়ি নিহত এবং মেজরসহ ১৩ জন সেনাসদস্য, গুইমারা থানার ওসিসহ তিন জন পুলিশ সদস্য এবং আরো অনেকে আহতের ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গভীর দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।
“মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এ মর্মে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে অতি শিগগির তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
ততক্ষণ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য ধারণ করে শান্ত থাকার জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়।
পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে তিনজন যুবক মারা গেছেন। কয়েকজন আহত আছেন। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “তারা গুলিতে না ঢিলের আঘাতে মারা গেছে, সেটা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পওয়ার পর জানা হবে।”
গুইমারার পরিস্থিতি এখন ‘নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
খাগড়াছড়ি জেলার সিভিল সার্জন মোহাম্মদ সাবের বলেন, “গুইমারা থেকে তিনজন পুরুষের লাশ এসেছে হাসপাতালে। লাশগুলো মর্গে রাখা হয়েছে। আগামীকাল সকালে ময়নাতদন্ত করা হবে।”
গুইমারার ঘটনায় আহত আরো চারজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানান তিনি।
এদিকে ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’র এক ফেইসবুক পোস্টে বলা হয়, “২৭ সেপ্টেম্বর থেকে খাগড়াছড়িতে আমাদের শান্তিপূর্ণ অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ সততার সাথে চলছে। কিন্তু গত কয়েকদিনে খাগড়াছড়ি শহরজুড়ে সেনাবাহিনীর ব্যাপক তল্লাশি, মারধর ও ধারপকড়ের ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেছে – যা কখনো গ্রহণযোগ্য নয়।
“তদুপরি গুইমারায় জুম্ম ছাত্র-জনতার ওপর সেনাবাহিনীর গুলিবর্ষণ এবং সেটলারদের দ্বারা দোকানপাট ও বাড়িঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের নির্মম প্রতিবেদন এসেছে। সেনা ও সেটলারদের হামলায় চার জন নিহত এবং বহু জন আহত হয়েছেন। আমরা এই বর্বরতা ও ন্যায়বিচারের অনুপস্থিতি কঠোরভাবে নিন্দা জানাই এবং প্রতিবাদ করছি।”
দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তিন পার্বত্য জেলায় সড়ক অবরোধ অনির্দিষ্টকাল চলবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয় ওই ফেইসবুক পোস্টে। সেখানে বলা হয়, সকল পর্যটন কার্যক্রমও এ সময় বন্ধ থাকবে।
বিডিনিউজ







