ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ সাধারণত বয়স্কদের সমস্যা বলে মনে করা হয়। তবে বর্তমানে শিশু ও কিশোরদের মধ্যেও এ রোগের প্রকোপ বাড়ছে।
ছোটদের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ টাইপ-১ ডায়াবেটিস দেখা যায়, তবে স্থূলতার কারণে টাইপ-২ ডায়াবেটিসও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসিডেন্ট চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন বলেন, “এ রোগ জীবনভর চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও সঠিক ব্যবস্থাপনায় শিশুরা সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে।”
ছোটদের ডায়াবেটিসের ধরন
ডা. নয়ন জানান, টাইপ-১ ডায়াবেটিস একটি ‘অটোইমিউন’ রোগ। এতে শরীরের নিজস্ব ‘অ্যান্টিবডি’ অগ্ন্যাশয়ের ইন্সুলিন উৎপাদনকারী বিটা কোষ ধ্বংস করে। ফলে ইন্সুলিনের ঘাটতি দেখা দেয় এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।
এ অবস্থায় ‘ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস’ হলে শিশুর জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
অন্যদিকে, টাইপ-২ ডায়াবেটিস সাধারণত স্থূলকায় কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে দেখা যায়। এক্ষেত্রে ইন্সুলিন তৈরি হয়, তবে শরীরের কোষগুলো ইন্সুলিনের প্রতি সাড়া দেয় না (ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স)।
অপুষ্টিজনিত বিশেষ ধরনের ডায়াবেটিসও কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, যেখানে অগ্ন্যাশয় পর্যাপ্ত ইন্সুলিন উৎপাদন করতে পারে না।
ঝুঁকিতে থাকা শিশুরা
পরিবারে টাইপ-১ ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকলে
স্থূলকায় শিশু বা কিশোর
ঘাড়ের ত্বক কালো হয়ে যাওয়া (অ্যাকান্থোসিস নিগ্রিকান্স)
ফাস্ট ফুড ও কোমল পানীয়তে অভ্যস্ত
কায়িক শ্রমের অভাব
জন্মের সময় কম ওজন বা ডায়াবেটিক মায়ের গর্ভে জন্ম
উচ্চ কোলেস্টেরল বা পিসিওএস-এ আক্রান্ত কিশোরী
লক্ষণগুলো চেনার উপায়
অভিভাবকদের সচেতনতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আর নিম্নলিখিত লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন-
আকস্মিক ওজন কমে যাওয়া
অতিরিক্ত পিপাসা ও বারবার পানি পান
রাতে ঘন ঘন প্রস্রাব করতে ওঠা বা বিছানায় প্রস্রাব করা
অতিরিক্ত ক্ষুধা ও ক্লান্তি
সংক্রমণ সহজে না সারা
হঠাৎ নিস্তেজ হয়ে পড়া, শ্বাসকষ্ট বা অচেতনতা (কিটো-অ্যাসিডোসিসের লক্ষণ)
চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা
প্রথমে রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষার মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিশ্চিত করতে হবে এবং এর ধরন নির্ণয় করতে হবে।
টাইপ-১ ডায়াবেটিসে আজীবন ইন্সুলিন ইঞ্জেকশন প্রয়োজন। টাইপ-২ ডায়াবেটিসে মুখে খাওয়ার ওষুধ, সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম ও ওজন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
ডা. নয়ন বলেন, “ডায়াবেটিস দীর্ঘমেয়াদি রোগ হওয়াতে পরিবারের সকল সদস্যকে স্বাস্থ্যশিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। শিশু বড় হলে নিজে রক্তের গ্লুকোজ পরিমাপ, ইন্সুলিন নেওয়া ও খাদ্যাভ্যাস মেনে চলার প্রশিক্ষণ দিতে হবে।”
সময়মতো চিকিৎসা ও জীবনধারা পরিবর্তনের মাধ্যমে জটিলতা প্রতিরোধ করা যায়।
ছোটদের ডায়াবেটিস নিয়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। সঠিক নির্ণয়, নিয়মিত চিকিৎসা ও পরিবারের সহযোগিতায় শিশুরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে।
অভিভাবকদের প্রধান দায়িত্ব হল- লক্ষণগুলো সময়মতো চেনা এবং চিকিৎসকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা।
বিডিনিউজ







