রামুতে আবৃত্তি সঙ্গীত নৃত্য ও কথামালার আয়োজনে অনুুষ্ঠিত হয়েছে ‘যুক্ত করো হে সবার সঙ্গে, মুক্ত করো হে বন্ধ’। শব্দায়ন আবৃত্তি একাডেমির প্রশিক্ষণ পরিচালনায় অনুুষ্ঠিত হয় প্রমিত উচ্চারণ, বাচনিক উৎকর্ষ, আবৃত্তি, উপস্থাপনা ও বক্তৃতা বিষয়ে মূল্যায়নধর্মী এ অনুষ্ঠান।
শনিবার (১৬ মে) সন্ধ্যায় রামু উপজেলা পরিষদের বাঁকখালী মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে, রামু প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা পরিষদ। আবৃত্তি সঙ্গীত নৃত্য আর কথামালার সম্মিলনে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণ ও পদচারণায় উৎসবমুখর হয়ে ওঠে আয়োজনটি।

রামু প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা পরিষদের আহ্বায়ক মাস্টার মোহাম্মদ আলম এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে রামুর ভুমিপুত্র সাহিত্যিক এরশাদুল হকের ‘ছন্দে গাঁথা ছড়া কবিতা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
অনুষ্ঠানের মুখ্য আলোচক শব্দায়ন আবৃত্তি একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক জসীম উদ্দিন বকুল বলেন, দুঃসময় থেকে সুসময়ে মানুষ পৌঁছে দেবে মানুষকে, আমরা আবার নিরাময় হয়ে উঠবো। এই আশাবাদ জাগ্রত রেখে রামুতে শব্দায়ন আবৃত্তি একাডেমির শিশু-কিশোর বিভাগের শিক্ষার্থীদের মননে জাগ্রত হচ্ছে ‘আমরা করবো জয়’, ‘আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে’। বাংলা ভাষার শুদ্ধতা চর্চার মধ্য দিয়ে নিজেদের নির্মাণ করছে সাহিত্য সংস্কৃতি ও মানবতার আগামি প্রজন্মের শক্তি হিসেবে। তারা বুঝতে শিখছে, সকলকে যুক্ত হতে হবে এই শিল্প-সুন্দর বলয়ে, আর যত কূপমন্ডকতা হতে মুক্ত করতে আমাদের মন ও মননকে জাগিয়ে রাখতে হবে।
অধ্যাপক নীলোৎপল বড়ুয়ার সঞ্চালনায় অনুুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্ফর আহমদ, রামু সরকারি কলেজের প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুপ্রতীম বড়ুয়া, লেখক-গবেষক আকতারুল আলম, সাহিত্যিক এরশাদুল হক, নাট্যজন ও সঙ্গীত শিল্পী বিভাষ সেনগুপ্ত জিগমী, সংস্কৃতিকর্মী গোলাম কবির, ব্যাংকার ননী গোপাল দে, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন রামু উপজেলার সভাপতি হাফেজ আহমদ, রামু সরকারি কলেজ শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক অধ্যাপক ইজত উল্লাহ, সংস্কৃতিকর্মী ধর্মদর্শী বড়ুয়া, লেখক-গবেষক সাংবাদিক আবুল খায়ের মোহাম্মদ আতিকুজ্জামান রাসেল, রামু খিজারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক নাজনিন আকতার মেরি, ব্যাংকার নুরুল আমিন, ছড়ুয়া সম্পাদক কামাল হোসেন প্রমুখ। এ অনুষ্ঠানে রামু প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা পরিষদ সদস্য খালেদ শহীদ, সুনীল বড়ুয়া, দিপক বড়ুয়া, সোয়েব সাঈদ, জয়শ্রী বড়ুয়া, মিজানুর রহমান, দিবস বৈদ্য, মিজানুল হক উপস্থিত ছিলেন।

স্বাগত বক্তব্যে রামু প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা পরিষদের সদস্য সচিব রেজাউল আমিন মোরশেদ বলেন, শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। বাবা-মা ও পরিবারের বড়রা যেভাবে কথা বলেন এবং আচরণ করেন, শিশুরা ঠিক তা-ই শেখে। সে লক্ষে রামুতে চালু করা হয়েছে প্রমিত উচ্চারণ, বাচনিক উৎকর্ষ, আবৃত্তি, উপস্থাপনা ও বক্তৃতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। আমরা চাই রামুতে মুক্তবুদ্ধির চর্চা হোক। আমাদের সন্তানরা সুন্দর ভাবে শুদ্ধ ভাবে কথা বলুক। শুদ্ধ সংস্কৃতির মধ্যে বেড়ে উঠুক।
শব্দায়ন আবৃত্তি একাডেমির সহকারী পরিচালক ও জ্যেষ্ঠ প্রশিক্ষক মিনহাজ চৌধুরীর সঞ্চালনায় উদ্বোধনী পরিবেশনায় কবিগুরু ও বিদ্রোহী কবির কবিতা ‘অন্তর মম বিকশিত করো, হে সর্ব শক্তিমান’ যুগল আবৃত্তিতে অংশ নেয় ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। এরপরে একে একে বিভিন্ন পরিবেশনায় অংশ নেয়, নার্সারি-কেজি শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণির প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় আরও ছিলেন, রোমেনা আক্তার, দিপক বড়ুয়া, জয়শ্রী বড়ুয়া, সানজিদুল ইসলাম মাহিন, চৈতী দাশ, উম্মে শাইলা ইসলাম রাহি ও আহরার খালেক প্রভাত।
শব্দায়ন আবৃত্তি একাডেমির সহকারী পরিচালক ও জ্যেষ্ঠ প্রশিক্ষক মিনহাজ চৌধুরী বলেন, ‘যুক্ত করো হে সবার সঙ্গে, মুক্ত করো বন্ধ’ আমাদের সকলের আন্তরিক সহযোগিতা, শ্রম, দিকনির্দেশনা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুন্দর ও সার্থকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রশিক্ষণ, মহড়া, শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলা এবং পুরো আয়োজনকে সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে নেওয়ার পেছনে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে জড়িত প্রত্যেকের আন্তরিক ভূমিকা সত্যিই প্রশংসনীয়। মঞ্চের সামনে ও আড়ালের সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও ভালোবাসা অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত ও স্মরণীয় করে তুলেছে।

সভাপতির বক্তব্যে মাস্টার মোহাম্মদ আলম বলেন, আমাদের শিশুরা ভীষণ কোমল। পরিবেশ-প্রকৃতিও ভীষণ সুন্দর। এই সুন্দর কোমলতা শিল্প-সাহিত্যে আমরা অনুভব করি। সুন্দর করে কথা বলাও একটা শিল্প। আর সুন্দর করে কবিতা পড়া, কথা বলা মানুষকে নির্মল আনন্দ দেয়। শিশুরা যে চর্চা নিয়ে বেড়ে উঠবে, সে বড় হয়ে তাই হবে। শিল্প-সাহিত্য, সংস্কৃতি চর্চায় বেড়ে উঠুক আমাদের সন্তানরা। শুদ্ধতার চর্চায় মানবিক মানুষ হবে, আমরা সেই লক্ষে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের শুদ্ধ সংস্কৃতি, আমার আপনার মন পাহারা দেয় এবং সম্প্রীতির সেতুবন্ধন রচনা করে।







