রামুতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সহায়তা দিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী যুবসংগঠন ‘উই ক্যান কক্সবাজার’। রোববার (১৯ জুলাই) কক্সবাজারের রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের বন্যাকবলিত ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ২৩৪ জন স্থানীয় বাসিন্দাকে এ চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়।
সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে যুব সংগঠন ‘উই ক্যান কক্সবাজার’ (We Can Cox’s Bazar)-এর উদ্যোগে কক্সবাজারে শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা কার্যক্রম। আগামীকাল সোমবার ২৯ জুলাই) চকরিয়া উপজেলায়, পরের দুই দিন ২১ ও ২২ জুলাই পেকুয়া উপজেলার বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকায় ‘উই ক্যান কক্সবাজার’ এই স্বাস্থ্য ক্যাম্প পরিচালনা করবে।

স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসক, মেডিকেল শিক্ষার্থী ও যুব স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করছে। এই ক্যাম্পে সাধারণ রোগের চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য পরামর্শ, স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতামূলক পরামর্শ এবং মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাউন্সেলিং ও দিকনির্দেশনামূলক সেবা প্রদান করা হচ্ছে। বন্যা-পরবর্তী মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও ট্রমায় আক্রান্ত ব্যক্তি ও পরিবারের জন্য বিশেষ মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তাসেবাও প্রদান করা হবে।
স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসক ডা. নাবিলা ইসলাম, ডা. মেহজাবিন বিনতে তৌহিদ, ডা. জোহেব হোসাইন, ডা. সাবরিনা মনসুর, ডা. মনিষা দাশ, ডা. ইশপিতা মাশহুরা জেসিকা ডা. এস. এ. আরেফিন ইতো, মেডিকেল শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম ইমন, ইসরাত জাহান জয়তি, তমাশ্রী মজুমদার, তুর্জ বিশ্বাস ও প্রাপ্তী দাশ সহ ‘উই ক্যান কক্সবাজার’ এর যুব সংগঠকরা এই স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে অংশ নেন।
এ উদ্যোগের অন্যতম সংগঠক ড. সাবরিনা মনসুর (বিসিএস-স্বাস্থ্য) বলেন, ‘উই ক্যান কক্সবাজার’ এর সহযোগিতায় আমরা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বছর মেয়াদি ফেলোশিপে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছি। সেই ফেলোশিপে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার থেকেই আমরা প্রচলিত আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির পরিবর্তে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সরাসরি স্বাস্থ্য ও মানসিক সহায়তামূলক এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।’
‘উই ক্যান কক্সবাজার’ প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ওমর ফারুক বলেন, ‘অনেক ব্যক্তি, সংগঠন ও শুভানুধ্যায়ীর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সহযোগিতাকে একত্রিত করে আমরা কক্সবাজার জেলায় বিনামূল্যের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছি। আমাদের লক্ষ্য দুই হাজার বন্যাকবলিত মানুষকে সরাসরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা। আজ রোববার প্রথম দিনে রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের বন্যাকবলিত ৪ নম্বর ওয়ার্ডে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান শুরু করেছি। পর্যায়ক্রমে চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকায় এ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এ চিকিৎসা ক্যাম্পে দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ১২ জন স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসক, মেডিকেল শিক্ষার্থী ও স্বাস্থ্যকর্মী। এ ক্যাম্প পরিচালনায় সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন ‘উই ক্যান কক্সবাজার’এর সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সবুজ ও মোহাম্মদ সানিসহ একদল যুব স্বেচ্ছাসেবক । রোববার রামুতে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিচালনায় সার্বিক ভাবে সহযোগিতা করায় রামু প্রেসক্লাব সভাপতি এম আবদুল্লাহ আল মামুন সহ কাউয়ারখোপ ইসলামিয়া তাজবিদুল কোরান মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান তিনি।

এই মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা করেছে প্রফেসর ড. সাদিকুল ইসলাম, কক্সবাজার-চকরিয়া-পেকুয়া সমিতি, উইটনেস ফাউন্ডেশন, ইয়াং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা), চেইঞ্জ ইনিশিয়েটিভ, পিপিসি, আইএসডিই বাংলাদেশ, আলভী-মনোয়ারা ফাউন্ডেশন, কক্সবাজার মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন এবং রাজাখালী উন্মুক্ত পাঠাগার।
‘উই ক্যান কক্সবাজার’ কর্মকর্তারা জানান, ‘দুর্যোগের সময় শুধু খাদ্য বা ত্রাণ নয়, স্বাস্থ্যসেবা ও মানসিক সহায়তাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ওষুধ ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করাই আমাদের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসক, স্বেচ্ছাসেবক এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সহযোগিতায় ভবিষ্যতেও দুর্যোগকবলিত জনগোষ্ঠীর জন্য এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।







