বাঁকখালী নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর মো. শাহীন (১৫) নামে এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাজারকুল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিকদার পাড়া এলাকায় নিখোঁজের স্থান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত শাহীন রামু মনসুর আলী সিকদার আইডিয়্যাল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র, কক্সবাজারের রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের সিকদার পাড়া এলাকার বাসিন্দা প্রবাসী নুরুল আমিনের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ রফিক জানান, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) শেষ বিকেলে সিকদার পাড়া এলাকার বাঁকখালী নদীর পাড়ের বাদামতলী মাঠে কয়েকজন বন্ধু মিলে ফুটবল খেলছিল। খেলা শেষে শাহীনসহ তিন বন্ধু বাঁকখালী নদীতে গোসল করতে নামে। তারা বাঁকখালী নদীতে একটি কলা গাছ দেখতে পেয়ে, কলাগাছটি নিয়ে সাঁতার করে। এক সময় শাহীন পানিতে তলিয়ে যায়। অন্য বন্ধুরা চেষ্টা করেও তাকে উদ্ধার করতে পারেনি। পরে স্থানীয়রা নদীর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন।

শাহিনের বড় ভাই মো. ফয়সাল বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে খেলা শেষে নদীতে গোসল করতে গিয়ে আমার ভাই পানিতে তলিয়ে গেছে। এরপর থেকে তাকে কোথাও পাওয়া যাচ্ছিল না। আমরা নদীর পাড় ও আশপাশের এলাকায় খোঁজ করছিলাম। দ্রুত উদ্ধার অভিযানের দাবি জানিয়েছিলাম।
রামু ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার আবদুল কাদের চৌধুরি জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেয়। কক্সবাজারে ডুবুরি দল না থাকায় বুধবার উদ্ধার তৎপরতা সম্পন্ন করা যায় নাই। পরে বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রামের ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে শাহীনের মরদেহ উদ্ধার করে।
রাজারকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুফিজুর রহমান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। কক্সবাজারে ডুবুরি দল না থাকায় চট্টগ্রাম থেকে ডুবুরি দল আনার ব্যবস্থা করা হয়। সকালে তারা এসে অভিযান চালিয়ে শাহীনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়ে।
স্থানীয়রা জানান, বাঁকখালী নদীর ওই অংশে পানির গভীরতা ও স্রোত থাকায় উদ্ধার অভিযান জটিল হয়ে পড়ে। দীর্ঘ প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর শাহীনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।







