এম.এ আজিজ রাসেল:
কক্সবাজার শহরে শিক্ষা বিস্তারে অবদান রাখছেন স্বনামধন্য শিক্ষকরা। দীর্ঘ দিন ধরে তৃণমূল পর্যায়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান সম্মত ও আধুনিক গাইড লাইন দিয়ে আদর্শ নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করছেন তারা। যার জন্য এসব শিক্ষার্থী ও অভিভাবক ওইসব শিক্ষকদের প্রতি আস্থা রেখেছেন এখনো।
বিশেষ করে জেলার স্বনামধন্য ঐতিহ্যবাহী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় শিক্ষার মানোন্নয়নে তাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। প্রাথমিকের সিঁড়ি পার হওয়ার পর মাধ্যমিকে সফল ভাবে যেসব শিক্ষার্থী পদার্পণ করছে, তাদের সফলতার নেপথ্যে রয়েছে জেলার বিজ্ঞ কয়েকজন শিক্ষক। তাঁদের হাত ধরে এ পর্যন্ত অগণিত শিক্ষার্থী মাধ্যমিকের গন্ডি পেরিয়ে সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ করছে উচ্চ মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে।
এছাড়া ওইসব শিক্ষকদের পাঠশালা থেকে বের হওয়া অনেক ছাত্র-ছাত্রী আজ ম্যাজিষ্ট্রেট, অধ্যাপক, আইনজীবি, পুলিশ, সেনাবাহীনিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আদিষ্ট রয়েছে। যারা এখানো ভুলেনি তাদের সেই প্রিয় শিক্ষকদের। কিন্তু প্রতিনিয়ত এসব শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের ফাঁদ পেতে যাচ্ছে কতিপয় অসাধু মহল। যাদের একমাত্র উদ্দেশ্য শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা বলে জানা গেছে।
একজন আদর্শবান শিক্ষক সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন হলে পুরো সমাজের কলংক বলে মনে করছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরা। জানা গেছে, কোচিং বা প্রাইভেট এর অজুহাতে ওইসব ষড়যন্ত্রকারী বার বার শিক্ষকদের মানহানি অপচেষ্টা করেছে। তবে অভিজ্ঞ ও আদর্শবান শিক্ষকরা এমনিতেই প্রাইভেট বা কোচিং সমর্থন করেননা। ওই দুই স্কুলের কয়েকজন শিক্ষকদের গাইডলাইনের সুনাম রয়েছে জেলাব্যাপী। যার দরূণ অভিভাবক মহল তাদের প্রতি অবিচল ও আস্থাশীল দীর্ঘদিন ধরে। তাই প্রতিনিয়ত অভিভাবকরা তাঁদের সন্তানদের নিয়ে সেসব শিক্ষকদের কাছে ছুটে যান অনায়সে। যা কোচিং কিংবা প্রাইভেটের আওতায় পড়ে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কামরুন্নেছা, ব্যাংকার আবিদ উদ্দিন ও আফসানা আহমদ নামে অভিভাবক জানান, কোন শিক্ষক প্রাইভেট বা কোচিংয়ের জন্য আমাদের কাছে ছুটে আসেন না। সঠিক পাঠ্য পদ্ধতির জন্য আমরাই সন্তানদের নিয়ে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের কাছে ছুটে যাই।
কক্সবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর একে,এম ফজলুল করিম জানান, শিক্ষকরাই পারে একটি আদর্শ জাতি উপহার দিতে। একজন ছাত্র/ছাত্রীকে সঠিক গাইডলাইন না দিলে কাঙ্খিত সফলতা পাওয়া যাবে না। তাই সব স্তরে শিক্ষকদের প্রয়োজন।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আবদুল বারী বলেন, কোন শিক্ষকই চাইনা শিক্ষার্থীরা ভুল পথে নিমজ্জিত হউক। তাই সঠিক গাইডলাইন দিয়ে শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে সহযোগিতা করা শিক্ষকদের প্রধান কাজ। তবে ছাত্র-ছাত্রীদের পুঁজি করে ব্যবসা করা অনৈতিক।
কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবু তৈয়ব জানান, কোচিং বাণিজ্যে নীতিমালায় প্রদত্ত কোচিং বাণিজ্যের সংজ্ঞা কি ভাল করে না জেনে কারো বিরুদ্ধে কোচিং-বাণিজ্যের অভিযোগ আনা ঠিক না। তদুপরি সামাজিক বাস্তবতাও অস্বীকার করার জো নেই। ভাল ও দায়িত্বশীল শিক্ষকদের প্রতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেতর আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। সুস্পষ্ট অভিযোগ থাকলে শিক্ষকদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা যায়। তবে অপপ্রচার যেন কোন দক্ষ, অভিজ্ঞ ও দায়িত্বশীল শিক্ষকদের আত্মমর্যাদায় আঘাত করতে না পারে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মছরুর-উছ-জামান মনে করেন, বর্তমান শিক্ষাক্রম অনুযায়ী পাঠ্যসূচী যে পাঠসূচী রয়েছে, তার আলোকে সাধারণ শিক্ষার্থী নিজে নিজে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া সক্ষম নয়। অধিকাংশ অভিভাবকদের মানসিকতা মৌলিক অর্জনমূখী না হয়ে সন্তানরা পরীক্ষায় বেশি নাম্বার পাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। যার জন্য সন্তানদের নিয়ে অভিভাবকরা আস্থাশীল শিক্ষকদের সান্নিধ্যে যেতে চায়। একই অনুভূতি প্রকাশ করেছেন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মানিক, জাহেদ, সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাকারিয়া ও রফিক।







