মোঃদেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া:
পুরনো বছরের সকল অপকৌশল,অপশক্তি,অশালিনতা,কু-সংস্কার,হটকারিতা,হিংসা বিদ্ধেষ,হানাহানি,রাহাজানি,ঝগড়া,
মারামারি,অন্যায়-অত্যাচার,পাপাচার,জুলুম-নির্যাতন,অশ্লিলতা,বেহায়াপনা,মিথ্যা কথা সহ সকল অশোভন,অমার্জিত অাচরণ পরিত্যাগের মাধ্যমে হতাশা ও ব্যার্থতার ক্লেদ ও গ্লানি মুক্ত হয়ে,নতুন বছরে সুন্দর,মনোরম,নিষ্কন্টক একটি পরিবেশ উপহার দেয়ার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে এগিয়ে যেতে সক্ষম ও সামর্থ হতে পারলেই নব অানন্দে নব দিগন্তের সূচনায় সমাজ, দেশ ও বিশ্ব থেকে অমানবিক নির্দয় অাচরণের পরি সমাপ্তি ঘটতে পারে৷
অামরা সবাই সন্তানদের জন্য সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্যেই চেষ্টা করি৷ কিন্তু অামরা দেখেছি সন্তান ঐশীর নিজ মাতা পিতাকে হত্যা করার খবর৷ দামী বাইকের টাকা না পেয়ে সন্তানের নিজ মাতা পিতার গায়ে অাগুন দেয়ার খবর৷
“একটি শিশু নিষ্পাপ থাকে, শিশুটি বৃদ্ধির সাথে সাথে যা দেখে, দেখানো হয়, করানো হয়, তাই সে দেখে করে ও শিখে। তাই পরিবারের ভালোবাসা, ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি, নেশামুক্ত সৎ চরিত্রবান সন্তান গঠনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার দিকে নজর দেয়া সকল অভিভাবকের একান্তই প্রয়োজন।”
পাশাপাশি বিশ্বের মোড়ল রাষ্ট্র গুলো যেন কারো উপর কোন অন্যায় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে না পারে সে দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা এবং নিজ সামর্থ অনুযায়ী ব্যাবস্থা নেয়া৷
অাফগানিস্তান যুদ্ধের পূর্বেকার শান্তিপূর্ণ বিশ্বের অবস্থান অার বর্তমান অরাজক বিশ্বের অবস্থান অাকাশ পাতাল ফারাক৷
অামেরিকা অাফগানিস্তান,ইরাক,লিবিয়া ও সিরিয়ায় অাক্রমণ ও দখলদারিত্বের পূর্বে,সেখানে ছিল শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান৷
কিন্তু যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সেখানে বর্তমানে অাত্মঘাতী হামলা,দলে দলে বিভক্ত হয়ে নিজেরা নিজেদেরকে হত্যা করা,ধর্মকে পুজি করে উগ্রবাদের সৃষ্টি নিত্যদিনের স্বাভাবিক দৃশ্যে পরিণত হয়েছে৷
কিন্তু যারা এই বিশৃঙ্খল অবস্থার জন্য দায়ী তাদের কোন শাস্তি হচ্ছেনা৷
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত বার্মার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠি৷ মিয়ানমার সরকারের দৃষ্টিতে রোহিঙ্গা অারবীয় ও বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত মুসলমান৷ একমাত্র এই অতি সামান্য অজুহাতে নাগরিক হিসাবে রোহিঙ্গাদের স্বীকৃতি দিতে চায়না৷
এমন এক সময় ছিল পৃথিবীর প্রতিটি এলাকা ছিল সকল মানুষের৷ তখন কোন বর্ডার লাইন বলতে কিছু ছিলনা৷ এর ও অনেক পরে প্রায় ৬০০ বছর অাগে থেকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠি সেখানে বসবাস করে অাসছে৷ ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারীতে মিয়ানমারের স্বাধীনতা লাভের পরবর্তী সময়ে নাগরিক হিসেবে রোহিঙ্গারা পার্লামেন্ট সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন৷ ১৯৬২সালের সামরিক সরকারের সময় থেকেই রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন শুরু হয়৷ যার মাত্রা পৃথিবীর ইতিহাসে বর্তমানে সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে৷ অনেকেই মনে করেন মানবতাই সবচেয়ে বড় ধর্ম৷ তাদের পাশে মানবতার শ্লোগানধারী বিশ্ব মানবাধিকার অাজ কোথায়?
ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে সারাবিশ্বে অনেক অনেক প্রপাগান্ডার পরও ৩০/১২/১৬ইং এর দৈনিক কালের কন্ঠের তথ্য অনুযায়ীঃ
# ২০ শে জুলাই অারবী পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানাযায় সৌদি অারবে কর্মরত বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী প্রবাসী শ্রমিকদের মধ্য থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৬৪ জন ইসলাম ধর্ম গ্রহন করছে৷ চলতি বছর ৪৬হাজার নারী পুরুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করছে৷
# ইসলাম গ্রহণ করলেন জার্মানির এমপি ক্লাউড৷
# দেড়শ বছর পর গ্রিসের রাজধানী অ্যাথেন্সে মসজিদের অনুমোদন৷
# ধর্মীয় অাপত্তির প্রতি সম্মান জানিয়ে নাইজেরিয়ার চলচ্চিত্র পল্লী বাতিল৷
# ইউরোপের পরিত্যাক্ত গির্জাগুলো মসজিদে রূপান্তর করা হচ্ছে৷
# হিজাবকে সরকারি ইউনিফর্ম ঘোষণা দিয়েছে স্কটল্যান্ড৷
# জার্মানির কারাগারে প্রথম বারের মতো নামাজখানা নির্মাণ৷
# বৈষম্যের প্রতিবাদে প্রতি বুধবার হিজাব পড়ছেন অামেরিকার একটি ইউনিভার্সিটির খ্রিষ্টান ছাত্রীরা৷
# ভারতের উত্তরাখন্ডে মুসলিম চাকরিজীবিদের জন্য জুমার বিরতি৷
# ফিলিস্তিন অন্চ্ঞল মাইকে অাজান নিষিদ্ধের প্রস্তাব সংবলিত বিলের প্রতিবাদে ইসরায়েলের সংসদ সিনেটে অাজান দিয়ে প্রতিবাদ জানালেন এক মুসলিম পার্লামেন্ট সদস্য৷
# প্রথম বারের মতো অক্সফোর্ড মিউজিয়ামে ইসলামী শিল্প প্রদর্শনী ৮৫ বছর পর তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরের বিখ্যাত মসজিদ অায়া ও সোফিয়ায় অাজান ও নামাজের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়া হলো৷
নতুন বছরে অামরা অামাদের প্রত্যেককে ও সারা বিশ্বের সকলের জীবনকে সুন্দর মানবিকতায় উদ্ভাসিত করতে পারি৷ বর্বর ব্যাক্তিদের হৃদয় হোক নরম, যুদ্ধ ও নির্যাতন চাইনা শান্তি চাই।
সময়ের সঠিক মূল্যায়নের মাধ্যমে অামরা যেন পুরনো সকল বিভৎস খারাপ স্মৃতি ভুলে নব উদ্যমে সুখ,শান্তি,সমৃদ্ধির স্নিগ্ধতায় প্রত্যেকে প্রত্যেককে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি অাগামীর পথে এটাই অামার একান্ত প্রত্যাশা ৷







