প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু:
রামু উপজেলার পূর্ব রাজারকুল গ্রামের দরিদ্র পরিবারের সন্তান প্রণয়। এই বছর অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার কথা। কিন্তু আর পড়া হলনা। এমন মৃত্যু সে পেল যে মৃত্যু তাকে তার দেহটা নিয়ে কবরে যাওয়ার সুযোগ পর্যন্ত দিলনা।
গত ২ ফেব্রুয়ারি বিকালে ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের অফিসেরচর এলাকার নতুন সেতুর উপর দিয়ে সাইকেল চালিয়ে রাস্তার উপর নামছিল প্রণয়। একই সময়ে রামু-মরিচ্চ্যা সড়কের দক্ষিণ দিক থেকে মাটি ভর্তি একটি বড় পিকআপ দ্রুত গতিতে আসছিল। উত্তরদিকে ধাবমান বেপরোয়া গাড়িটি প্রণয়কে চাপা দেয়। প্রণয়ের মাথার মগজ থেকে শুরু করে শরীরের প্রায় সবকিছু বের হয়ে আসে।

রাস্তায় এখন অবৈধ চালক এবং অবৈধ গাড়ির হিড়িক পড়েছে একথা কম বেশি আমরা সবাই জানি। কিন্তু প্রণয়ের মৃত্যুর বিষয়টি পর্যালোচনা করলে দেখা যায় এক্ষেত্রে আরো একটি বড় কারণ আছে। যেখানে প্রণয়ের প্রাণ গেছে সেটা তিন রাস্তার সংযোগস্থল। উত্তর এবং দক্ষিণমুখী রাস্তার মুখে গিয়ে মিলেছে নবনির্মিত সেতুর মুখ। সেতু নির্মাণ করার সময় এই বিষয়টাও নজর দেওয়া উচিত ছিল। পর্যাপ্ত দুরত্ব বজায় রেখে উত্তর এবং দক্ষিণ পাশে রাস্তার উপর স্পিডব্রেকার বা গতিরোধক দেওয়া উচিত ছিল। তখন সেতুর কাছাকাছি আসার আগেই চালক তার গাড়ির গতি কমাতে বাধ্য হবে।
আশা করি প্রণয়ের প্রাণ বলির মাধ্যমে স্পিডব্রেকারের বিষয়টি এবার অন্তত গুরুত্ব পাবে। অন্যতায় আর কোন দুর্ঘটনা যে হবেনা এর নিশ্চয়তা দেওয়া যায়না।
এই বিষয়ে আমরা কর্তৃপক্ষের সুনজর কামনা করছি।
এই মৃত্যুর জন্য সান্তনাই যথেষ্ট নয়। এই শোক সইবার মতও নয়। আমরা প্রণয়ের শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।







