আমাদের রামু রিপোর্ট:
একের পর এক বিতর্কিত কান্ডে সমালোচনা কুড়িয়ে চলেছেন বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরওয়ার কামাল। ধরাকে সরা জ্ঞান করে তিনি মারধর করছেন উপজেলার নিরীহ জনগণ থেকে শুরু করে দূর-দূরান্তের আগত পর্যটকদের। সর্বশেষ গত ২৮ জুন নাইক্ষ্যংছড়ি উপবন লেকে ঈদের ছুটিতে বেড়াতে যাওয়া দুই পর্যটককেও মারধর করেছেন কামাল।
এসব কান্ড ঘটানোর ক্ষেত্রে তিনি নিজের পরিচয় দিচ্ছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর জামাতা বলে। তাঁর এহেন আচারণকে রংবাজি বলে অবহিত করছেন জনগণ। অস্বস্তিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও। তাঁর ‘রাংবাজিতে’ নাইক্ষ্যংছড়িসহ কক্সবাজারজুড়ে চলছে সমালোচনার ঝড়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, গত ২৮জুন দুপুরে নাইক্ষ্যংছড়ি উপবন লেক থেকে দুই পর্যটককে লাথি মেরে বের করে দেন ইউএনও সরওয়ার কামাল। সেসময় ইউএনওর গাড়ি চালক টিপু বড়ুয়াও তাদের লাঞ্ছিত করেন। ঘটনার সময় ইউএনও পাঁশে দাড়িয়ে ছিলেন ইউএনওর শ্যালক রনি। যিনি নিজেকে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ভাতিজা বলে পরিচয় দেন।

প্রত্যেক্ষদর্শী উপজেলা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী ওই ঘটনাকে ইউএনও’র রংবাজি অ্যাখায়িত করে বলেন, ‘নাইক্ষ্যংছড়ি এখনো অধিক পর্যটন বান্ধব উপজেলা হিসাবে গড়ে উঠেনি। ধর্মীয় ও নানা আচার অনুষ্ঠানে উপবন লেকে পর্যটকেরা আসেন। কিন্তু তারা যদি প্রশাসনের কর্মকর্তার কাছে এভাবে লাঞ্ছিত হয়-তাহলে অদূর অভিষ্যতে নাইক্ষ্যংছড়ি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা জন্ম নেবে।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য বলেন, ইউএনও বদমেজাজি। কথায় কথায় হাত-পা নড়ে। মানুষকে মারধর করেন। তারা জানান, সদ্যসমাপ্ত উপজেলার সদর ইউপির উপনির্বাচনের দিনও ইউএনওর হাতে মার খেয়েছেন অনেক নীরহ ভোটার। কোন এক ক্ষমতার বলে তিনি কাউকে পাত্তা দিচ্ছেন না।
এ বিষয়ে ইউএনও সরওয়ার কামালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদকের সঙ্গে রূঢ় ব্যবহার করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
যোগাযোগ করলে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক (ডিসি) দিলীপ কুমার বণিক জানান, তিনি বিষয়টি জানতেন না। তাৎক্ষণিক তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নিবেন।







