আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছেন বলে গুঞ্জন বাড়ছে। এরই মধ্যে দেশ ছাড়ার চেষ্টায় তিনি বাধা পেয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য তিনি নাকি সম্প্রতি ভিসা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র তা প্রত্যাখ্যান করেছে, শোনা যাচ্ছে এমনটাই।

‘দ্য হিন্দু’ পত্রিকা এক শীর্ষ কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন খবর পাওয়ার কথা জানিয়েছে।
গোটাবায়া আগে শ্রীলংকা এবং যুক্তরাষ্ট্র দু’দেশেরই দ্বৈত নাগরিক ছিলেন। কিন্তু ২০১৯ সালের নির্বাচনের আগে দিয়ে একটি আইন মেনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছেড়ে দেন। ওই আইনে বিদেশি নাগরিকত্ব নিয়ে শ্রীলংকায় নির্বাচনে দাঁড়ানো নিষিদ্ধ ছিল।
ওই বছর নির্বাচনে বিপুল জয় নিয়ে শ্রীলংকার ক্ষমতায় বসেন গোটাবায়া। কিন্তু মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে এসে দেশের নাগরিকদের টুঁটি চেপে ধরা চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে সেই নেতাই হয়ে গেলন সবচেয়ে অপ্রিয়।
বিক্ষোভকারীদের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ দখলের মুখে গোটাবায়া আগামী বুধবারই পদত্যাগ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পার্লামেন্টের স্পিকার মাহিন্দা ইয়াপা আবেবর্ধনে আগামী ২০ জুলাই নতুন প্রেসিডেন্টের জন্য পার্লামেন্টে ভোটগ্রহণের তারিখও ঘোষণা করেছেন।
আর এর মধ্যেই গোটাবায়ার দেশ ছাড়ার চেষ্টার খবরে জল্পনা ডালপালা মেলেছে। মঙ্গলবার কলোম্বোর এক কর্মকর্তা ‘দ্য হিন্দু’ পত্রিকাকে বলেছেন, “শ্রীলংকায় সাম্প্রতিক নানা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গোটাবায়া যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপদ আশ্রয় পাওয়ার চেষ্টা নিয়েছিলেন। কিন্তু সে সুযোগ তাকে দেওয়া হয়নি।”
গত শনিবার শ্রীলংকার বিক্ষোভকারীরা গোটাবায়ার বাসভবন দখলে নেওয়ার আগেই তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। কর্মকর্তারা বলছেন, তারপর থেকেই তিনি কোথায় আছেন তা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকে গেছে।
‘দ্য হিন্দু’ পত্রিকা এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য কলোম্বোর আমেরিকান দূতাবাসে যোগাযোগ করেও কোনও সাড়া পায়নি।
ওদিকে, সিএনএন ঊধ্র্বতন এক সামরিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানায়, শ্রীলংকার বন্দরনায়েক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্টাফরা সোমবার গোটাবায়া এবং তার পরিবারের ১৪ সদস্যের দেশ ছাড়ার চেষ্টায় বাধ সেধেছে।
ওইদিন গোটাবায়ার সহযোগীরা প্রেসিডেন্ট এবং তার পরিবারের ১৪ জনসহ মোট ১৫ টি পাসপোর্ট নিয়ে কলোম্বোর বিমানবন্দরে পৌঁছায়। দুবাইগামী শ্রীলংকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে তাদের আসন বুক করা ছিল। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬ টা ২৫ মিনিটে ফ্লাইট ছাড়ার কথা ছিল।
কিন্তু প্রেসিডেন্ট ও তার পরিবারের সদস্যরা সশরীরে বিমানবন্দরে উপস্থিত না হওয়ায় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তাদের পাসপোর্ট চেক করতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ও তার পরিবারকে ছাড়াই ফ্লাইট ছেড়ে যায়।
এরপর রাত ৯ টা ২০ মিনিটে প্রেসিডেন্টের পরিবার কলোম্বো থেকে আবুধাবীগামী আরেকটি ইতিহাদ ফ্লাইট ধরার চেষ্টা করে। সেবারও ঘটে একই সমস্যা।
দুটো ঘটনাতেই গোটাবায়া পরিবার বিমানবন্দরের কাছাকাছি একটি লাউঞ্জে ছিল। তারা পাসপোর্ট চেক করানোর জন্য লাইনে না দাঁড়িয়ে সরাসরি বিমানে ওঠার জন্য অনুমতি পাওয়ার অপেক্ষায় ছিল।
এএফপি’র এক প্রতিবেদন তুলে ধরে ‘দ্য হিন্দু’ পত্রিকা বলছে, “প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া এবং তার স্ত্রী সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়ার চারটি ফ্লাইট মিস করে প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছের একটি সামরিক ঘাঁটিতে রাত কাটিয়েছেন।”
তবে প্রেসিডেন্টের মিডিয়া ডিভিশনের এক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গোটাবায়ার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি বলে জানিয়েছে পত্রিকাটি।
শ্রীলঙ্কার ভেতরে গোটাবায়া এখন কোথায় তা জানা নেই। সিএনএন জানায়, সাবেক এক পুলিশ কর্মকর্তার প্রকাশিত ভিডিওতে বলা হয়েছিল, গোটাবায়া বিমানবাহিনীর কমান্ডারের ব্যক্তিগত একটি বাড়িতে থাকছেন।
কিন্তু ভিডিওটি প্রকাশের পর মঙ্গলবার শ্রীলংকা এয়ার ফোর্স (এসএএলএফ) এমন খবর অস্বীকার করেছে।
এদিকে শ্রীলঙ্কার ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের সমিতির এক বিবৃতির বরাতে দেশটির সংবাদপত্র ফিন্যান্সিয়াল টাইমস বলেছে, রাষ্ট্রপ্রধানে বিদেশ গমনে বাধা হয়নি ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট গোটাবায়ার বিদেশ গমন আটকে দিয়েছেন, এমন খবর ভিত্তিহীন। আদতে প্রেসিডেন্টের বিদেশ গমন আটকানোর এমন কোনো আইনি ক্ষমতাই ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের নেই।
সূত্র : বিডিনিউজ






