ইমরান হোসাইন:
পেকুয়া উপজেলা সদরের পেকুয়া বাজার এলাকায় বেকারিগুলোতে ঈদকে সামনে রেখে নানান ধরনের খাবার তৈরী করা হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্যাঁতস্যাঁতে নোংরা পরিবেশে ভেজাল ও নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে অবাধে তৈরী করা হচ্ছে খাদ্য সামগ্রী। কারখানার ভেতরে যেখানে তৈরী খাবার রাখা আছে সেখানেই আটা, ময়দার গোডাউন। রয়েছে ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ, কেমিক্যাল এবং একাধিক পাম ওয়েলের ড্রাম। আশপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নানা ধরনের তৈরী পণ্য। শ্রমিকরা খালি পায়ে এসব পণ্যের পাশ দিয়ে হাঁটাহাটি করছে। আটা ময়দা প্রক্রিয়াজাত করানো কড়াইগুলোও রয়েছে অপরিস্কার ও নোংরা। ডালডা দিয়ে তৈরী করা ক্রিম রাখা পাত্রগুলোতে ঝাঁকে ঝাঁকে মাছি ভন ভন করছে। উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ ছাড়াই বাহারি মোড়কে বনরুটি, পাউরুটি, কেক, বিস্কুটসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্য সামগ্রী উৎপাদন ও বাজারজাত করা হচ্ছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মাঝে মধ্যে এসব কারখানায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হয়। কিন্তু নিয়মিত তদারকির অভাবে বেকারী মালিকরা এখন আরো বেপরোয়া গতিতে চালাচ্ছে তাদের পণ্য উৎপাদন।
পেকুয়া উপজেলা সদরের বিভিন্ন চা-স্টলে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন বেকারির মোড়কে পলি প্যাকেটে ঝুলছে পাইরুটি, বাটারবন, কেক, পেটিসসহ অন্যান্য খাদ্য পণ্য। এসব খাদ্য পণ্যের মোড়কে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণ লেখা থাকলেও কত তারিখে উৎপাদন হয়েছে বা মেয়াদ কবে শেষ হবে তার কোন উল্লেখ নেই। বেকারীতে তৈরী নিম্নমানের খাদ্য সামগ্রী ফজরের পরই তাদের নিজস্ব ভ্যানে বিভিন্ন এলাকার পাড়া মহল্লায়, জেনারেল স্টোর ও চায়ের দোকানে পৌছে দেন ডেলিভারিম্যানরা।
পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের টিএইচও ডাঃ মুজিবুর রহমান আমাদের রামু কে বলেন, ভেজাল কেমিক্যাল ও নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে তৈরী করা খাবার সামগ্রী খেলে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি হতে পারে। পেটব্যাথা, শরীর দূর্বলসহ জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তিনি আরো বলেন, মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর এসব ভেজাল খাদ্য উৎপাদন বন্ধ করতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার কোন বিকল্প নেই।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মারুফুর রশীদ খান আমাদের রামু কে বলেন, যে সকল কারখানায় ভেজাল ও নোংরা পরিবেশে খাদ্য পণ্য তৈরী করছে, তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।








