এম.এ আজিজ রাসেল:
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যতা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা। এ উৎসবকে ঘিরে রাখাইন পল্লীর প্রতিটি ঘরে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। চলছে ধর্মীয় নাচ-গান, বয়ান ও আতশবাজি।
বিহারগুলো সেজেছে নব রূপে । সর্বত্র আলোকসজ্জা। ধর্মীয় চেতনায় নর-নারী, শিশু, যুবক-যুবতী, আবালবৃদ্ধারা নতুন পোশাক ও উন্নতমানের খাবার নিয়ে বিহারে গমন করছেন। ১৫ অক্টোবর শহরের মাহাসাংদোগ্রী মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, রাখাইন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন গুলো ছোট ছোট নজরকাড়া ২০টি প্যান্ডেল তৈরি করেছে। এসব প্যান্ডেলের প্রধান আকর্ষণ বুদ্ধ। বিকাল থেকে ছোট শিশু থেকে শুরু করে প্রবীণরা আসছে দলে দলে। সকলেই শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে প্রার্থনা করতে দেখা গেছে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার পর পূর্ণার্থীদের মিলন মেলায় পরিণত হয় মন্দির প্রাঙ্গন।
এসময় ফানুস উড়িয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কক্সবাজার সিটি কলেজের অধ্যক্ষ ও দৈনিক সমুদ্রবার্তার সম্পাদক ক্যথিং অং। এরপর আকাশে উড়ানো হয় অর্ধশত ফানুস।
এবার এখানে প্যান্ডেল সাজিয়েছে আরডিএফ, বাংলাদেশ রাখাইন স্টুডেন্ট কাউন্সিল, ফ্রি স্টাইল রিলেশনশীপ, রাজধানী ফ্রেন্ডস সার্কেল, রাখাইন যুব ইউনিটি, হ্যাংগিং গার্ডেন, রাখাইন তরুন প্রজন্ম ঐক্য পরিষদ, রাখাইন তরুণ সংঘ ও বৌদ্ধ মৈত্রী পরিষদ। এছাড়া মোহাজের পাড়া, বাজার ঘাটা, বৈদ্য ঘোনা ও জাদিরাম পাহাড় বিহারেও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ উৎসব পালন করা হচ্ছে। ১৬ অক্টোবর উৎসবের সমাপনী হবে। এরপরদিন পালিত হবে জাহাজ ভাসা উৎসব।
মন্দিরে আগত পূর্ণার্থী মং হ্লা ওয়ান, জ জ, জ জ উ, আবুরী, মংমং, আক্য, ওয়াহ ওয়াহ, সো সো, ওয়ান ওয়ান, মিলি ছেন, লিলি উ, থোয়াই নিন, উক্যমং চলং, থিন লাইন, হাপু, উসেমি বাবু, মং থেন নাই, উথিন জ, মং সিয়ে, জহিন, এ লাইন, ছ লাইন, ওয়াশে, নাই নাই থেন, কিংজ, ববি, অভি, মং মং, আউ, জ্যাক, ময়টিং, ও জওয়ান জানান, এ পূর্ণিমায় গৌতম বুদ্ধ তাঁর শিষ্যদেরকে ধর্ম প্রচার শুরু করার জন্য দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।।
অধ্যক্ষ ক্যথিং অং জানান, সিদ্ধার্থ যখন গৃহত্যাগ করেন তখন অনোমা নদীর তীরে এসে অধিষ্ঠান করে নিজ চুলকে কর্তন করে উপরে দিকে নিক্ষেপ করেন। সে চুল গুচ্ছ দেবরাজ স্বর্ণপাত্রে ধারণ করে স্বর্গে চৈত্য নির্মাণ করেন। এই চৈত্যের নাম চুলামনি চৈত্য। তাই চুলামনি জাদিকে পূঁজা করতে ফানুস উড়ানো হয়।
তথাগত ভগবান বুদ্ধ আড়াই হাজার বছর পূর্বে তাবতিংস স্বর্ঘে ৩ মাস বর্ষাবাস যাপন করে আশ্বিনী পূর্ণিমা বা প্রবারণা পূর্ণিমা দিনে মর্ত্যলোকে অবতরণ করেন।






