হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী :
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের চির অবহেলিত ফুলতলী গ্রামে নেই স্বাস্থ্যসেবার মান। মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এই এলাকার পাহাড়ী-বাঙালি বাসিন্দারা অসহায় ও হতদরিদ্র। তাই তাঁরা নিতে পারছে না উন্নত মানের চিকিৎসা সেবা। জীবনে ভাল ডাক্তার দেখার সুযোগ হয়নি তাঁদের। কিন্তু বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এসব দুস্থদের মাঝে দিনব্যাপী ফ্রি চিকিৎসা সেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
আজ বুধবার ৭ডিসেম্বর সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ৩১ বিজিবির সার্বিক পরিচালনায় ফুলতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ওই চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।
ক্যাম্পে বান্দরবান সেনা রিজিয়নের অধীনস্থ ৭ ফিল্ড এ্যাম্বুলেন্স ইউনিট থেকে আসা চিকিৎসকদের মাধ্যমে দন্ত, সাধারণ স্বাস্থ্য (মেডিসিন), শিশু স্বাস্থ্য, প্রসূতি সেবা ও পরিবার পরিকল্পনার উপর আলোচনা, পরামর্শ এবং বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করা হয়। ক্যাম্প থেকে চারশ নারী-পুরুষ চিকিৎসাসেবা নিয়েছে।
এর আগে সকাল নয়টায় চিকিৎসা ক্যাম্পের উদ্বোধনকালে নাইক্ষ্যংছড়ি জোন ও ৩১ বিজিবির অধিনায়ক লে.কর্ণেল আনোয়ারুল আযীম বলেন, সীমান্তরক্ষার পাশাপাশি বিজিবি সদস্যরা মানবতার সেবায় কাজ করছে। এছাড়াও মানুষের নিরাপত্তা বিধানে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সীমান্তে চোরাচালান বন্ধে এলাকাবাসীকে সজাগ থাকতে হবে। কারণ ইয়াবা ট্যাবলেট হচ্ছে মরণনেশা। এটি পাশ্ববর্তী মিয়ানমারে তৈরী হচ্ছে। কিন্তু ইয়াবার মাধ্যমে মিয়ানমার সরকার বাংলাদেশের যুবসমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, এক সময়ের অশান্ত পার্বত্যাঞ্চলে শান্তিচুক্তির পর কিছুটা শান্তি ফিরে এলেও যেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি নেই। দুর্গম এলাকায় এখনও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনীর বিচরণ রয়েছে। বিভিন্ন কায়দায় চাদাঁবাজি করছে তারা। এর বাইরেও কিছু খারাপ দুষ্ট প্রকৃতির লোক এলাকায় নারী শিশু পাচার, মাদক পাচার, বৃক্ষ নিধনসহ অন্যায় অবিচার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করে। এসব দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে সৎ সাহস করে প্রতিবাদ করতে না পারলেও সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে তাদের বিষয়ে এলাকাবাসীকে তথ্য দিতে হবে। কারণ ৭-৮ শত বিজিবি সদস্য নিয়ে জোনের বিশাল সীমান্ত এলাকা পাহারা দেওয়া দুষ্কর।
একটি সীমান্ত পিলার থেকে অপর সীমান্ত পিলার এলাকায় সাধারণ জনগণের বসবাসস্থল। আর এ সীমান্ত পাহারার জন্য আপনাদের প্রত্যেকজনকে অস্ত্র বিহীন বিজিবি সদস্য হিসেবে কাজ করতে হবে।
সরকার মনে করে উন্নয়ন করতে হলে জনগণ ছাড়া সম্ভব নয়। জনগণের সহযোগিতা ছাড়া শুধুমাত্র বিজিবির পোষাক পরে আমরাও উন্নয়ন করতে পারবনা।
এ সময় ৩১ বিজিবির উপঅধিনায়ক মেজর মোঃ শফিকুর রহমান, কক্সবাজার সেক্টরের মেডিকেল কর্মকর্তা মেজর মেহেদী হাসান রবিন, ৭ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্সের জুনায়েদ আলম, ডেন্টিস ক্যাপ্টেন শারমিন হক, ল্যাফটেন্যন্ট মহসিনা, নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেসক্লাব সভাপতি শামীম ইকবাল চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার নয়ন, সিনিয়র সাংবাদিক মাঈনুদ্দিন খালেদ, সাংবাদিক হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী, জাহাঙ্গীর আলম কাজল, মোহাম্মদ ইউনুছ প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, নাইক্ষ্যংছড়ি বিজিবি জোনের অধীনে গরিব অসহায় রোগীদের জন্য প্রায় সময় বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়ে থাকে। দুর্গমতার কারণে যেখানে সাধারণ চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম পৌঁছায় না এমন এলাকায় নিরাপত্তাবাহিনীর পক্ষ হতে চিকিৎসা সেবা পরিচালনা করা হয়।
বৃহস্পতিবার ৮ ডিসেম্বর দোছড়ি ইউনিয়নের পাইনছড়িতে হবে এ ধরণের আরো একটি চিকিৎসা ক্যাম্প।







