মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে দিনে দুটি করে পরীক্ষা নেওয়ার আভাস দিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সেই প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিন বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার সরকারি ল্যাবরেটরি বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে পরিদর্শনে গিয়ে বাইরে উপস্থিত অভিভাবকের এ কথা বলেন মন্ত্রী।খবর বিডিনিউজের।
তিন হাজার ২৩৬টি কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়েছে এসএসসি পরীক্ষা; যাতে অংশ নিচ্ছেন ১৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬১৩ জন শিক্ষার্থী।
মন্ত্রীকে কাছে পেয়ে একজন অভিভাবক পাবলিক পরীক্ষায় দুটো বিষয়ের পরীক্ষার মধ্যে আরও সময় রাখার দাবি জানান।
এ সময় নাহিদ বলেন, “ভবিষ্যতে দুই বেলা পরীক্ষা নেওয়া হবে, সেই প্রস্তুতি নিন। আগে পাঁচ দিনে সব পরীক্ষা নেওয়া হতো।”
গত বছরের এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর দিন পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিকের মতো পাবলিক পরীক্ষার সময় কীভাবে কমিয়ে আনা যায়, তা খুঁজে বের করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
আগামীতে সব বিষয়েই সৃজনশীলে প্রশ্ন হবে কি না- একজন অভিভাবকের এমন জিজ্ঞাসায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য সৃজনশীল একটি ভালো পদ্ধতি, এতে চিন্তা করে উত্তর লিখতে হয়, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়ে।
“বর্তমান জগৎটাই অন্য রকম, আপনারা নার্ভাস হবেন না। আপনাদের ছেলেমেয়েরা অনেক বেশি জানে, তারা অনেক বেশি সচেতনও।”
কোনো অবস্থাতেই কেউ যেন পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করতে না পারেন বেশিরভাগ অভিভাবকই শিক্ষামন্ত্রীর কাছে সেই দাবি রাখেন।
উত্তরে নাহিদ বলেন, “প্রশ্ন ফাঁসরোধে আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি, আশা করছি প্রশ্ন ফাঁস হবে না। তবে কেউ কেউ ভুয়া প্রশ্ন তৈরি করে তা বিক্রি করে। আপনারা ভুয়া প্রশ্নে পেছনে ছুটবেন না।”
মন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইন অভিভাবকদের জানান, ‘ভুয়া প্রশ্ন ফাঁসের’ সঙ্গে জড়িত থাকায় বুধবার রাতে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পাবলিক পরীক্ষার সময় ফেইসবুক বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়ে কয়েকজন অভিভাবক বার বার মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করলেও এ বিষয়ে কিছু বলেননি নাহিদ।
কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে নাহিদ সাংবাদিকদের বলেন, আধঘণ্টা আগেই পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে এসেছে, প্রশ্ন বিতরণের আগেই উত্তরপত্রে বিভিন্ন তথ্য পূরণ করেছে।
“আশা করছি শিক্ষার্থীরা ভালো পরীক্ষা দেবে। আমি তাদের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা সবাই খুশি। অভিভাবকরা আরও সচেতন হয়ে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দেবেন।”
শিক্ষার মান বাড়লেও তা আরও উন্নত মানে পৌঁছাতে হবে মন্তব্য করে নাহিদ বলেন, লেখাপড়ার পদ্ধতিকে আরও সহজ করতে হবে যেন ছেলেমেয়েরা সহজেই বুঝতে পারে। সেই কাজ মন্ত্রণালয় শুরুও করেছে।
“পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে নম্বরের তারতম্য অনেক সময় বেশি হয়ে যায়। সেটা কমিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। সব বিষয় সম্পর্কে একটা গাইডেন্সও দেওয়া হবে।… পাঠ্যপুস্তক নিয়ে দুই বছর ধরে বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে।”
এবারও পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে এসএসসি ও সমামানের পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক এস এম ওয়াহিদুজ্জামান, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান ছাড়াও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মন্ত্রীর সঙ্গে কেন্দ্র পরদির্শনে যান।
পরীক্ষার্থীদের অসুবিধা যাতে না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনা করে কেবল মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশ করেন।






