হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী :
পার্বত্য নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুমে পাহাড় ধসে বৃদ্ধ মহিলার মৃত্যু এবং ৪ দিনের টানা বর্ষণে পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় হাজারো মানুষের চরম দূর্ভোগের খবরে সূদুর ঢাকা থেকে নাইক্ষ্যংছড়িতে ছুটে এলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি। তিনি বৃহস্পতিবার দুপুরে বিমান যোগে ঢাকা থেকে কক্সবাজার আসেন। এরপর উপজেলা সদর থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরের ঘুমধুম ইউনিয়নের আজুখাইয়া গ্রামে যান পাহাড় ধসে মৃত ছমুদা খাতুনের পরিবারকে সমবেদনা জানাতে।
এসময় তিনি ৪০ হাজার টাকা সাহার্য্য তুলে দেন মৃত ছমুদার পরিবারকে। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম সরওয়ার কামাল জানান, টানা বর্ষণের ফলে নাইক্ষ্যংছড়ির ৫ ইউনিযনের প্রায় সকল সড়কের সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বৃধবার সকাল থেকেই। এছাড়া নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গিয়ে দূর্ভোগে পড়ে শতশত পরিবার। পাহাড় ধসের ঘটনাও বেশ। বিশেষ করে ঘুমধুমের আজুখাইয়ায় মাটির ঘরের দেয়াল চাপা পড়ে বৃদ্ধ মহিলার মৃত্যু খবর সহ বান বাসীর মানুষের পাশে ছুটে এসে ত্রাণ বিতরণ করেছেন সারাদিন। এছাড়া উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নেরও খোঁজখবর নিয়ে তিনি নেতা কর্মিদের দূর্গত মানুষের পাশে দাড়াতে নির্দেশ দেন এ সময়।
তিনি আরো জানান, এ বন্যায় বানবাসী মানুষের সহায়তা হিসেবে বান্দরবান জেলা প্রশাসক নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার জন্যে ৫ টন চাল দেন তৎক্ষণাৎ। যা ইতিমধ্যেই বিতরণ করা হয়েছে। যাতে মানুষ খুশি। ঘুমধুম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গির আজিজ জানান, মন্ত্রী বিকেলে কক্সবাজার থেকে ঘুমধুম পৌছেন। রাত ৮টা পর্যন্ত এখানে ত্রান বিতরণ ও পথ সভা করেন। এরপর তিনি ১৫০ কিলোমিটার দূরের বান্দরবান জেলা সদরে ফিরে যান। তিনি আরো বলেন,সারাদিন ত্রান বিতরণকালে তিনি আজুখাইয়া,বেতবুনিয়া বাজার ও আরো কয়েকটি স্থানে র্দূগত মানুষকে শান্তনা দিয়ে বক্তব্য রাখেন। সর্বশেষ বিকেল ৫টার দিকে ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদে দলীয় নেতা-কর্মি ও সূধিদের নিয়ে আলোচনা সভা করেন মন্ত্রী।
এতে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলা প্রশাসক দীলিপ কুমার বণিক, বান্দরবান পুলিশ সুপার সঞ্চয় কুমার রায়, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম সরওয়ার কামাল, পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য শফিকুর রহমান, বান্দরবান জেলা সদস্য লক্ষ্মীপদ দাস, মোজাম্মল হক বাহাদুর, মন্ত্রীর প্রতিনিধি আলহাজ্ব খাইরুল বশর, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সচিব মো: ইমরান মেম্বার ও তসলিম ইকবাল চৌধুরী সহ জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নের অধিকাংশ নেতা-কর্মী।







