সুনীল বড়ুয়া:
মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কক্সবাজারের রামু উপজেলায় আবার বন্যা দেখা দিয়েছে। কয়েকদিনের টানা বর্ষন এবং পাহাড়ী ঢলে উপজেলার অন্তত ১১টি ইউনিয়নের দুইলাখ মানুষ আবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
খাবার,বিশুদ্ধ পানি এবং বাসস্থানের অভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছেন দুর্গত এলাকার মানুষ। বুধবার (২৬ জুলাই) থেকে কিছু কিছু এলাকা থেকে পানি নেমে গেলেও দুর্ভোগ কমছেনা।
অন্যদিকে বন্যার কারণে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিধ্বস্থ হয়ে গেছে, রাস্তা-ঘাট, বেড়িবাঁধসহ গ্রাম রক্ষা বাঁধ। ফলে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে লোকজন।
ঈদগড়, গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া, রাজারকুল, দক্ষিন মিঠাছড়ি, খুনিয়াপালং, ও কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে উপজেলা সদরের সাথে। পানিবন্দী থাকায় এখনো পাটদান বন্ধ রয়েছে বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।
সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা গেছে ,বন্যায় মঙ্গলবার সকালে ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের হাইটুপি ভুতপাড়া এলাকার রামু ফকিরা বাজার-জাদিমুরা সড়ক বাঁকখালী নদীতে বিলীন হয়ে গেছে, ভেঙ্গে গেছে এর পাশেই নতুন করে নির্মাণ করা বেড়িবাঁধটি। ফলে ভাঙ্গা অংশ দিয়ে পানি ঢুকে রামু ও কক্সবাজার সদরের পিএমখালী,বাংলা বাজারসহ বিস্তিৃর্ণ এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়।
এছাড়াও ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কের ব্যাপক এলাকা ঈদগাঁও খালে বিলীন হয়ে গেছে, রামু-মরিচ্যা সড়ক, রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়ক, কচ্ছপিয়া-গর্জনিয়া সড়ক,লামারপাড়া-তেচ্ছিপুল সড়ক, রশিদনগর-ধলিরছড়া সড়ক বাঁকখালী নদী ও সোনাইছড়ি খালের বন্যায় প্লাবিত হয়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে হাজার হাজার মানুষকে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগড় পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া কচ্ছপিয়া-গর্জনিয়ার বাকখাঁলী সেতুর সংযোগ সড়ক বিলীন হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে।
রামুর ভুত পাড়ার বাসিন্দা নবী হোসেন বলেন, মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে অঅবার বন্যা দেখা দিয়েছে। আগের বারের যে ক্ষতি হয়েছে এখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারিনি। এখন নতুন করে আবার বন্যা ,কিভাবে চেলে মেয়ে নিয়ে বাঁচবো।
লট উখিয়ারঘোনার আবুল হোসেন বন্যার পানির প্রথম ধাক্কায় জাদীপাড়া সড়কটি ভেঙ্গে গেছে। এখন ছেলে মেয়েরা স্কুলে যেতে পারছেনা। মানুষকে যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
একই এলাকার নুর মোহাম্মদ বললেন,ঘরটি পানিতে ডুবা। কাজে যেতে পারিানা।। ঘরে চাল নেই,খাবার নেই, খুব কষ্টে আছি। সরকারের ত্রাণ আমাদের কপালে জুটেনা।
জানা গেছে, টানা তিন দিনের বর্ষন এবং পাহাড়ী ঢলের কারণে উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের ফকিরা বাজার, হাইটুপি, পশ্চিম মেরংলোয়া, পূর্বমেরংলোয়া, শ্রীকুল, অফিসেরচর, মন্ডলপাড়া, সিকদারপাড়া, লামারপাড়া, খোন্দকারপাড়া, লম্বরীপাড়া, উত্তর ফতেখাঁরকুল, চালন্যাপাড়া, দোয়ানাপাড়া, পূর্বদ্বীপ শ্রীকুল, পূর্বদ্বীপ ফতেখাঁরকুল, তেমুহনী, হাজারীকুল, রাজারকুল ইউনিয়নের সিকদারপাড়া, হালদারকুল, পালপাড়া, মৌলবীপাড়া, নয়াপাড়া, পূর্ব রাজারকুল, দরগামুরা, দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের উমখালী, চরপাড়া, চেইন্দা, চাইল্যাতলী, পানেরছড়া, কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের মনিরঝিল, পূর্ব মনিরঝিল, লামার পাড়া, চরপাড়া, পূর্বপাড়া, জারুল্যাছড়ি, কাউয়ারখোপ ফরেষ্ট অফিস, বৈলতলী, জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের উত্তর মিঠাছড়ি, নন্দাখালী, নোনাছড়ি, আশকরখিল, পূর্বপাড়া, মালাপাড়া, রশিদনগর ইউনিয়নের উল্টাখালী, চাকমারকুল ইউনিয়নের মোহাম্মদপুরা, মিন্ত্রীপাড়া, শ্রীমুরা ও শাহমদ পাড়া, গর্জনীয়া ইউনিয়নের ক্যাজরবিল, বোমাংখিল, জুমছড়ি, কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের তিতারপাড়া, চাকমারকাটা, ফাক্রিকাটা, মুরারকাছা, শোকমনিয়া, দোছড়ি, জামছড়ি ও গর্জনয়িা বাজারসহ উপজেলার শতাধিক গ্রাম মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে আবার নতুন করে প্লাবিত হয়েছে।
এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে এসব এলাকার অন্তত দুইলাখ মানুষ। বাঁকখালী নদীর বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।
রামু উপজেলা নির্বার্হী অফিসার (ইউএনও) মোহাং শাজাহান আলী আমাদের রামু ডটকমকে বলেন,সরকারীভাবে এখনো কোনো ত্রাণ সহায়তা পাওয়া যায়নি। তবুও স্থানীয়ভাবে ব্যবস্থা করে আমরা যতটুকু সম্ভব শুকনো খাবার বিতরণ করছি। ইতিমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড় ধ্বসে নিহতদের দুটি পরিবারকে ৪০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তবে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা হয়েছে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রীর ব্যবস্থা করা হবে।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রিয়াজ উল আলম আমাদের রামু ডটকমকে জানান, উপজেলার এগার ইউনিয়নের সবকটি গ্রামই প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার অন্তত দুই থেকে আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। এখনো পর্যন্ত কোনো সরকারী সহায়তা পাওয়া না গেলেও প্রত্যেক ইউনিয়নে জনপ্রতিনিধিরা দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন । বানভাসী মানুষকে খাবার-দাবার দিচ্ছেন। আমরা উপজেলা প্রশাসন ও পরিষদের পক্ষ থেকে চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছি।
উল্লেখ্য, রামুতে বন্যায় কোন প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও ভারী বর্ষনের কারণে উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের চেইন্দা হাইম্যার ঘোনা এলাকায় পাহাড় ধ্বসে রায়হান (৫) ও সায়মা আকতার (৩) নামের দুই ভাই বোনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
পাহাড় ধ্বসে একই ইউনিয়নের জিয়াউর রহমান,চান্দের পাড়ার মৃত নুরুল আলমের ছেলে মো. শাহ ও মৃত শফিকুর রহমানের ছেলে আহমদের বসতঘর মাটি চাপা পড়ে।






