মো: ইউছুপ মজুমদার:
মায়ানমারের সামরিকজান্তা সরকারের নির্বিচার গণহত্যা ও রোহিঙ্গাদের জাতিগত নিধন যজ্ঞের বিরুদ্ধে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় মানবন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার সকাল ১০ ঘটিকায় আলীকদম মুরুং কল্যাণ ছাত্রাবাসের উদ্যোগে এই প্রতিবাদ সভা ও মনববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে সকাল ৯টায় আলীকদম মুরুং কল্যাণ ছাত্রাবাস থেকে একটি মৌন মিছিল বের হয়। মিছিলটি আলীকদমের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে আলীকদম প্রেস ক্লাবের সামনে আসলে আলীকদমের সর্বস্তরের জনসাধারণ মানববন্ধনে অংশগ্রহন করেন।
এতে আলীকদম মুরুং কল্যান ছাত্রাবাসের পরিচালক ইয়োংলক ম্রো, মুরুং কল্যাণ সংসদের সভাপতি মেনদন ম্রো, আলীকদম উপজেলা স্বেচ্চাসেবক লীগের সভপতি শুভরঞ্জন বড়ুয়া ও বিভিন্ন স্তরের মুরুং নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধন শেষে আয়োজকরা লিখিত বক্তব্য সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করেন। লিখিত বক্তব্যে প্রকাশ, দীর্ঘদিন যাবত মায়ানমারের সামরিকজান্তা সরকার সেখানকার আদিবাসি রোহিঙ্গাদের দমনপীড়ন করে আসছে। ৮ম শতাব্দীর স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র লুসাঙ্গা বা আরাকানের অধিবাসিরা দীর্ঘ বার’শ বছর যাবত ওই এলাকায় বসবাস করলেও তাদেরকে সকল প্রকার রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্জিত করা হয়েছে।
জান্তা সরকারের এই দমন পীড়নের ফলে বিগত কয়েকশ বছরে প্রায় বিশ লক্ষ আদিবাসী রোহিঙ্গা দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে। প্রাণ দিয়েছে প্রায় ৪০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা। চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে রোহিঙ্গা গণহত্যার প্রেক্ষিত মিয়ানমারের স্ট্রেট কাউন্সিলর অংসান সুচির গঠিত আনান কমিশনের দাখিল করা বেশ কয়েকটি সুপারিশ সহকারের প্রতিবেদন প্রকাশের পরদিনই সেখানকার সামরিক জান্তা সরকারের দমন-পীড়ন তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠে। যা বিগত কয়েক শতাব্দীর সবচেয়ে বর্বরতম ঘটনা বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, তাদের এই গণহত্যা চলাকালে সেখানে কোন মিডিয়াকে প্রবেশ করতে দেওয়া না হলেও ফেসবুক ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যানে আমরা দেখেছি তাদের নারকীয় গণহত্যার নমুনা। শুধু এতেই তারা খান্ত হয়নি। অবুঝ শিশুদেরকে গাছের সাথে ঝুলিয়ে নিচ থেকে আগুন ধরিয়ে দিয়ে হত্যা করেছে, জীবিত মাটিতে পুতে দিয়ে হত্যা করেছে, বাবা মায়ের সামনে জবাই করে দিয়ে হত্যা করেছে সন্তানকে, ভাইয়ের সামনে যুবতী বোনকে পালাক্রমে ধর্ষন করে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করেছে। এক কথায় যঘন্যতার সর্বোচ্চ উদাহরণ সৃষ্টি করেছে মায়ানমার। যার ফলে আজ বিশ্বের দরবারে তারা ঘৃনার আসনে আসীন। বিশ্ববিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে তাদের এই বর্বরতা। গলা কেটে হত্যা, পিষে হত্যা, ধর্ষন করে হত্যা, উলঙ্গ করে গাছের সাথে বেঁধে হত্যা, টুকরো টুকরো করে হত্যা। শুধু তাই নয়। লাশের চামড়া তুলে উল্লাসের দৃশ্যও আমরা দেখেছি প্রযুক্তির কল্যানে। মায়ানমারের সামরিক জান্তার এসব কর্মকান্ডের প্রতি আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা প্রতিবাদ জানাচ্ছি এসব বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড তথা জাতিগত নিধনজজ্ঞের। আপনাদের পতন হবে পৃথিবীর সবচেয়ে লজ্জাজনক পতন। সুতরাং আপনারা আপনাদের এই হায়েনাগিরী বন্ধ করুন। রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার দিন। তাদের ফিরিয়ে নিন।







