অনলাইন ডেস্কঃ
আগামী নির্বাচনে জিতে টানা তৃতীয়বার সরকার গঠনে আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

ভোটের আগে চাপ বাড়াতে প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দল বিএনপির নানা তৎপরতার মধ্যে শনিবার আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এক সভায় দৃঢ় কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার বিশ্বাস, আগামী নির্বাচনেও বাংলাদেশের জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে জয়যুক্ত করবে এবং উন্নয়নের ধারাটা অব্যাহত রাখবে।”
২০০৮ সালের নির্বাচনের মধ্যদিয়ে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ ২০১৪ সালে বিএনপির বর্জন ও আন্দোলন মোকাবেলা করে ভোট করে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতাসীন। বিএনপির নানা দাবি আমলে না নিয়েই আগামী নির্বাচনের পথে হাঁটছে তারা।
ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় নির্বাচন ধরে গণভবনে আওয়ামী লীগের এই সভার আগেই জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে সরকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এই সভার দিনই সংবাদ সম্মেলন করে আসছে নির্বাচনকে নিয়ে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরে এ কিউ এম বদরুদ্দাজা চৌধুরীর যুক্তফ্রন্ট ও কামাল হোসেনের গণফোরাম।
বিএনপি সংসদ ভেঙে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠা ও দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে আসছে। বি চৌধুরী ও কামাল হোসেনরাও সংসদ ভেঙে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার চাইছে। ভোটের সময় বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েনের দাবিও জানাচ্ছে উভয় পক্ষ।
এসব দাবি উপেক্ষা করে দশম সংসদ নির্বাচন করে আত্মবিশ্বাসী শেখ হাসিনা এবারও বলে আসছেন, সংবিধান অনুযায়ীই নির্বাচন হবে এবং তাতে কেউ অংশ না নিলে তার জন্য কিছু থেমে থাকবে না।
সেই কথার কোনো নড়চড় না করেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পথে এগিয়ে যাওয়ার অংশ হিসেবে শনিবার দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রথম বৈঠকটি করেন শেখ হাসিনা।
এই নির্বাচনকে ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ’ উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, “আমরা কিছু যাচাই-বাছাই শুরু করেছি। সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে আর যারা আছে, সবারই অবস্থার উন্নতি হয়েছে, দু-চারজন ছাড়া।
“পরপর দুবার ক্ষমতায় থেকেও জনপ্রিয়তা ধরে রাখা, মানুষের আস্থা বিশ্বাস অর্জন করা; এটা কিন্তু সচরাচর হয় না। আমরা সেটা করতে পেরেছি।”
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ‘সত্যিকার আন্তরিকতা দিয়ে উন্নয়ন তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছিয়েছে বলে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস ধরে রাখতে পেরেছে।
উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে সমালোচকদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, “তাদের চোখ থাকতেও অন্ধ, মনের দরজাও বন্ধ। কোনো ভালো তাদের ভালো লাগে না। বাংলাদেশের মানুষ ভালো আছে; এটা কি তাদের ভালো লাগে না?”
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে না বলে যারা বলে আসছেন, তাদের সামনে স্থানীয় পর্যায়ে হয়ে যাওয়া প্রায় সাড়ে ছয় হাজার নির্বাচনের ফল তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।
“প্রত্যেকটা ইলেকশন হচ্ছে,মানুষ ভোটে দিতে পারছে। মানুষ তো ভোট দিতে পেরে খুশি। যারা ভাবে, কোনো দিন ইলেকশন জিতবে না; তারা অখুশি। তারা ভাবছে, কখন কোথা থেকে কে এসে তাদের গদিতে বসাবে।”
রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “উত্তর দিকে মুখ করে থাকলে কী হবে? ওরকম মানসিকতা এখন আর কারও নাই। ওখান থেকে সাড়া দেওয়ার মতো কেউ নাই।
নিজের জীবনের উপর ঝুঁকির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাকে মেরে ফেলতে পারে। কিন্তু ইন-জেনারেল কেউ এসে ওনাদেরকে কোলে তুলে নিয়ে ক্ষমতায় বসাবে না। ওই মানসিকতা কারও নাই। কারণ, উন্নয়নটা আমরা সকলের জন্য করেছি। সবাই এটা উপলব্ধি করতে পারে।”
আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে তৃতীয় একটি জোট গড়া বি চৌধুরী ও কামাল হোসেনকে স্বাগত জানান শেখ হাসিনা।
এই জোটের পক্ষ থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি না পাওয়ার অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “তারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করুক। আমি কমিশনারকে (ডিএমপি কমিশনার) অনুরোধ করব।”
সরকারের বিরুদ্ধে মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণের অভিযোগ নাকচ করে এই পর্যায়ে শেখ হাসিনা হাসতে হাসতে বলেন, “একটা পার্মানেন্ট মঞ্চ করে দেব, যার যত ইচ্ছা মত প্রকাশ করুক।”
“কিন্তু,যারা মিথ্যাচার করবে, সংঘাত সৃষ্টি করবে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব,” পরক্ষণেই হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সূত্রঃ বিডিনিউজ






