শিক্ষা ডেস্কঃ
১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে আগামী শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের সব বই ছাপিয়ে উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেছেন, ৩৫ কোটির বেশি পাঠ্যবই ছাপানো হচ্ছে। ছাপাখানাগুলোতে পুরোদমে বই ছাপার কাজ চলছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১১ কোটি বই ছাপিয়ে মাঠ পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া গেছে। প্রতিদিনই এক থেকে দেড় কোটি বই ছাপিয়ে উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর মাতুয়াইল এলাকায় কয়েকটি ছাপাখানায় গিয়ে পাঠ্যবই মুদ্রণ কাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। বেলা তিনটায় মতিঝিলের ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড’ (এনসিটিবি) ভবন থেকে রওনা হন নাহিদ। সাড়ে তিনটার দিকে মাতুয়াইল এলাকার লিখন আর্ট প্রেসে গিয়ে হাজির হন। এ সময় ছাপাখানা বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন নাহিদ। তিনি কয়েকটি মুদ্রিত বই হাতে নিয়ে কাগজের মান পরীক্ষা করেন। বই ছাপতে কী কী ধরণের সমস্যা হচ্ছে তা ছাপাখানার শ্রমিকদের কাছে জানতে চান। মন্ত্রী পরে অটোবাইন্ডিং মেশিনে বুক বাইন্ডিংয়ের কাজ প্রত্যক্ষ করেন।
এ ছাপাখানার শ্রমিকরা জানান, তারা প্রাথমিক স্তরের ১৬ লাখ ১১ হাজার কপি পাঠ্যবই মুদ্রণের কাজ করছেন। এ মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়ে মন্ত্রী মাতুয়াইলের হাজী বাদশা মিয়া সড়ক ধরে পায়ে হেঁটে যান ‘জনতা প্রেস’ এ।
জনতা প্রেস ও মৌসুমী আর্ট প্রেসের মালিক মো. নজরুল ইসলাম মন্ত্রীকে জানান, তিনি প্রাথমিক স্তরের ১১ লাখ ও মাধ্যমিক স্তরের ৭ লাখ বই ছাপার কাজ পেয়েছেন। ৮০ ভাগ বই তিনি এরই মধ্যে ছেপে ফেলেছেন বলে জানান। মন্ত্রী এই ছাপাখানারও বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন ও মুদ্রণ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
স্থানীয় কয়েজন প্রেসমালিক মন্ত্রীকে জানান, মাতুয়াইল এলাকায় লোড শেডিংয়ের সমস্যা প্রকট। একটু পর পর বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে বইছাপার কাজ বিঘ্নিত হয়। শ্রমিকদের অলস বসিয়ে রাখতে হয়, এতে তাদের লোকসানও হয়। মন্ত্রী বিষয়টি দেখবেন বলে তাদের আশ্বস্ত করেন।
পরে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে নাহিদ বলেন, কেবল সাধারণ পাঠ্যবই-ই নয়, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেইল বই এবং ৫টি নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের নিজ ভাষায় পাঠ্যবই ছাপানো হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এবার বইয়ের ছাপার মান অনেক ভালো হয়েছে। বইয়ের মান প্রতিবছরই উন্নত হচ্ছে। নির্বাচনের বছর সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা ঠিক সময়ে বই পাবে জানিয়ে নাহিদ বলেন, ১ জানুয়ারি বই দিতে কোনো সমস্যা হবে না।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পাঠ্যক্রমের পরিবর্তন ও উন্নয়ন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। প্রতিবছরই বইয়ের মান বাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত আছে। গতবছর ৯ম ও ১০ শ্রেণির ১২টি পাঠ্যপুস্তক নতুন আঙ্গিকে প্রকাশ করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নাজমুল হক খান, এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা, সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) ড. মিয়া ইনামুল হক সিদ্দিকীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।





