ইমরান হোসাইন:
পেকুয়া উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস পালন করেছে ক্ষমতাসীন দল আ’লীগ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টান, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্টান, উপজেলা ও থানা প্রশাসন। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সোমবার ১৫আগষ্ট দিনব্যাপি নানা কর্মসুচি পালন করা হয়।
১৫আগষ্ট ভোরে পেকুয়া উপজেলা আ’লীগ কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসুচির শুভসূচনা করেন উপজেলা আ’লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দরা। এরপর দলীয় কার্যালয়ে খতমে কোরান ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্টিত হয়। সকাল ১০টার দিকে বিশাল একটি শোক র্যালী দলীয় কার্যালয় থেকে বের হয়ে পেকুয়ার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে। বেলা ১১টার দিকে উপজেলা আ’লীগের উদ্যেগে এক আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন পেকুয়া উপজেলা আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এড.কামাল হোসেন, সাধারন সম্পাদক আবুল কাসেম, জেলা আ’লীগের সাবেক সদস্য এসএম গিয়াস উদ্দিন, উপজেলা আ’লীগ সহ সভাপতি সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম, ফরিদুল আলম, রাজাখালী ইউপি চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেতা ছৈয়দ নূর, পেকুয়া সদর ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি আযম খান, উপজেলা যুবলীগ সাধারন সম্পাদক মোঃ বারেক, ছাত্রলীগ সভাপতি কফিল উদ্দিন বাহাদুর, সাধারণ সম্পাদক এহতেসামুল হক। এসময় আ’লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, সেচ্ছাসেবকলীগ, কৃষকলীগ, সৈনিক লীগের উপজেলা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যে পেকুয়া উপজেলা আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এড.কামাল হোসেন বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু না থাকলে আমরা স্বাধীন ভূখন্ড পেতাম না। ব্রিটিশদের পর পাকিস্তানের শোষণ-নির্যাতন থেকে বাঙালি জাতিকে মুক্তি দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত-পাকিস্তান আলাদা হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু দেখলেন বাংলার মানুষ প্রকৃত স্বাধীনতা পায়নি। যারা বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলে তাদের বিভিন্নভাবে আটক করে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। এ অবস্থায় বঙ্গবন্ধু প্রকৃত স্বাধীনতা লাভের জন্য পুরো জাতিকে প্রস্তুত করেছেন। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। যার ফলে মুক্তিযুদ্ধে সবাই ঝাপিয়ে পড়েছিল। আমরা স্বাধীনতা লাভ করলাম। কিন্তু কিছু নরপশু বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্ন পূরণ করতে দিল না। বঙ্গবন্ধুকে হত্যাকারীরা এখনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
শোক দিবস উপলক্ষে উপজেলা আ’লীগ দুপুরে পেকুয়া সমবায় কমিউনিটি সেন্টারে কাঙ্গালী ভোজের আয়োজন করে। রাজাখালী ইউপি চেয়ারম্যান ছৈয়দ নূরের অর্থায়নে প্রায় তিন হাজার মানুষকে এ কাঙ্গালী ভোজ খাওয়ানো হয়।
এদিকে পেকুয়া উপজেলা প্রশাসন কতৃক শোক দিবস পালন করা হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফুর রশীদ খান বলেন, বাংলাদেশ নামের ভূখন্ডের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ পৃথিবীতে বেঁচেছিলেন মাত্র ৫৫বছর। তার মধ্যে ২৩বছর কেটেছে জেলে। বাকি জীবন উৎসর্গ করেছেন আমাদের জন্য, সমগ্র বাঙালির জন্য।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফুর রশীদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত এ সভায় উপজেলা আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এড.কামাল হোসেন, উপজেলা আ’লীগের সাবেক সভাপতি বখতিয়ার উদ্দীন চৌধুরী, উপজেলা চেয়ারম্যান শাফায়াত আজিজ রাজু, উপজেলা জাতীয় পার্টির সিনিয়র সহ সভাপতি এম দিদারুল করিম বক্তব্য রাখেন।
এ সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজ প্রতিনিধি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানের প্রধানগণ এবং শিক্ষার্থী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহন করেন।
পেকুয়া থানা প্রশাসনের উদ্যোগে সোমবার ভোর সাড়ে পাঁচটায় জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করে উত্তোলন করা হয়। সকাল ৭টায় থানা মসজিদে খতমে কোরান, সকাল ১০টায় মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। এসময় পেকুয়া থানার ওসি জিয়া মোঃ মোস্তাফিজ ভূঁইয়াসহ থানার সকল কর্মকর্তা- কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে উপজেলার প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্টান সমূহে নানা কর্মসুচি পালন করা হয়। এ উপলক্ষে সকালে বিশাল বিশাল শোক র্যালি বের করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টান। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ব্যানার নিয়ে শোক দিবসের র্যালি বের করে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক সমূহ প্রদক্ষিন করে।






