এম.এ আজিজ রাসেল:
সেভ দ্যা চিলড্রেন এর আওতাধীন রিডিং ইনহ্যান্সমেন্ট ফর এডভান্সিং ডেভেলপপমেন্ট (রিড) প্রকল্পের উদ্যোগে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে সাংবাদিকদের সাথে গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৯ আগষ্ট বুধবার হোটেল সী-প্যালেসের হল রুমে অর্ধদিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ওসমান গণি।
কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু তাহেরের সভাপতিত্বে গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কোডেক এর পরিচালক আফসার হাবীব।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মান ক্রমাগত উন্নয়ন হচ্ছে। এ জন্য সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মিডিয়া ও সরকার একসাথে কাজ করলে গৃহীত উদ্যোগ আলোরমুখ দেখবে। প্রাথমিক স্কুল গুলোতে সমাপনী পরীক্ষায় পাশের হার বাড়ানোর দৃষ্টিকোণ পরিহার করে শিক্ষার মানোন্নয়নে নজর দেয়া দরকার। বিশেষ করে ১ম থেকে ৩য় শ্রেণীর মূল বিষয় বাংলা, ইংরেজী ও গণিত পাঠদানে আরো সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে। বিষয় গুলো সঠিকভাবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আয়ত্বে আসলে প্রাথমিকের মূল ভিত্তি মজবুত হবে। এছাড়া বিভিন্ন স্কুলে ঝরে পড়া শিশুদের কারণসহ নানা সমস্যা চিহ্নিত করে গঠনমূলক পদক্ষেপ বা তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশিত হলে উন্নয়নের শিখরে পৌছবে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা। সরকার প্রাথমিকে বাধ্যতামূলক শিক্ষা অর্জনের উদ্যোগ এখনো তেমন সফলতার মূল দেখছে না। এ জন্য সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। তাছাড়া রিডের প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে চলমান কার্যক্রম প্রশংসার দাবি রাখে।
প্রাথমিক শিক্ষার হালচাল ও রিডের নানা কার্যক্রম নিয়ে ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে ধারাবাহিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রিডিং রিড প্রকল্পের ডেপুটি ডাইরেক্টর একেএম হুমায়ুন কবির, মোঃ আকিদুল ইসলাম, জেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইকরাম উল্লাহ চৌধুরী ও প্রকল্পের ডেপুটি ম্যানেজার-মিডিয়া রিলেশন মেহের নিগার জেরিন।
প্রবন্ধে জানানো হয়, কক্সবাজারের রামুতে ৫৬টি ও সদরে ৩৫টিসহ মোট ৯১টি প্রাথমিক স্কুলে রিডের কার্যক্রম চলে আসছে। স্কুল গুলোতে প্রাথমিক শিক্ষা ও বাংলাভাষায় শিশুদের পঠন দক্ষতা উন্নয়নে আধুনিক ও বিজ্ঞান ভিত্তিক পদ্ধতিতে শিশুদের নানা বিষয়ে পাঠদান করা হচ্ছে। এসব পদ্ধতির মাধ্যমে সহজে পড়ার প্রতি মনযোগ ও আগ্রহ বাড়ছে। আনন্দের জন্য রয়েছে বিনোদনের আয়োজনও।
মূলতঃ প্রাথমিক স্তরের প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পঠন দক্ষতা উন্নয়নই রিড প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। ওইসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের বাংলা ভাষা পড়া, শেখার দক্ষতা, ধ্বনি সচেতনতা, বর্ণজ্ঞান অর্জন, শব্দভান্ডার আয়ত্ব ও সাবলিলতায় পাঠদান করা হয়। এতে স্কুলগুলোতে কমছে ঝরে পড়া শিশুদের সংখ্যা। পাশাপাশি পূরণ হচ্ছে সরকার কর্তৃক গৃহিত প্রাথমিকে বাধ্যতামূলক শিক্ষা গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা।






