মোঃ ইউছুপ মজুমদার:
বান্দরবানের লামা উপজেলায় বর্ণাঢ্যভাবে পালিত হলো আর্ন্তজাতিক আদিবাসী দিবস।
দিবসটি উপলক্ষে বান্দরবানের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায় বুধবার দুপুরে ‘আদিবাসী অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের ঘোষণাপত্রের এক দশক ঘোষণার বাস্তবায়ন চাই’ এ স্লোাগানকে প্রতিপাদ্য করে লামা কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণ থেকে স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী ও বিভিন্ন পেশাজীবীর শত শত নারী পুরুষের সমন্বয়ে এক বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়।
র্যালিটি উপজেলা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণে গিয়ে এক সমাবেশে মিলিত হয়। সেখানে আদিবাসী দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক চাহ্লাখইন মার্মার সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সদস্য বশিরুল আলম।
লামা উপজেলা জনসংহতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার আসামের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির বান্দরবান সমন্বয়ক আবুল কালাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির উপজেলা সভাপতি অংগ্য মার্মা, ম্রো যুব নেতা চম্পাট ম্রো, ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের সভাপতি ইলিশা ত্রিপুরা, উইমেন্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক উসাংপ্রু মার্মা,
ত্রিপুরা স্টুডেন্ট ফোরামের সভাপতি বীরেন্দ্র ত্রিপুরা। বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা সারা দেশে ৫০ আদিবাসী ভাষাভাষীর মধ্যে ইতিমধ্যে অনেক ভাষা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সরকার ক্ষমতায় আসার আগে পার্বত্যাঞ্চলের মার্মা, ত্রিপুরা, চাকমাসহ ৪৫টি সম্প্রদায়কে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। ক্ষমতায় আসার পর সরকার কথা রাখেনি। বরং আদিবাসীদেরকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হিসেবে গণ্য করেছেন। সে জন্যই আমাদের আন্দোলন। আমাদেরকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিয়ে আদিবাসী জাতিসমূহের জীবন ধারা উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। এ আন্দোলন শুধু জেএসএস’র নয়, এটি ৪০ লাখ আদিবাসীর আন্দোলন।
এসময় তারা আরো বলেন, আমরা বাঙ্গালি হওয়ার জন্য আন্দোলন করিনি। আমরা আদিবাসী ভাষা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রক্ষার জন্য আন্দোলন করেছি। অপরিদিকে বান্দরবানে জেলা সদরে “ আদিবাসীদের শিক্ষা, ভুমি ও জীবনের অধিকার” এ স্লোগানকে সামনে রেখে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে আদিবাসী দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে সকালে শহরের পুরাতন রাজবাড়ীর মাঠ থেকে একটি বিশাল র্যালি বের করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আবার একই স্থানে এসে শেষ হয়। এসময় তারা বিভিন্ন ব্যানার প্লেকার্ড ব্যবহার করে। পরে রাজার মাঠে আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ আর্ন্তজাতিক আদিবাসী উদযাপন কমিটিরি আহ্বায়ক লেলুং খুমির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রুমা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, অংথোয়াইচিং মার্মা। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, আদিবাসী নেতা জুয়ামলিয়ান আমলাই, অংচমং মার্মা, উচমং মার্মা, উবাথোয়াই মার্মা সহ বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠনের নের্তৃবৃন্দ।
এসময় বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি চুক্তির ধারা সমূহ দ্রুত বাস্তবায়ন, আদিবাসীদের শিক্ষা, ভূমি ও জীবনের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদানের আহ্বান জানান। পরে বান্দরবানে বসবাসরত ১১টি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরে বৈচিত্রময় গান ও নৃত্য পরিবেশন করেন।







