রামুতে দশটা বই নিয়ে ২০২০ সালের ১৪ অক্টোবর জ্ঞান পিপাসু কিছু শিক্ষার্থী উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘সাহিত্যঘর গণগ্রন্থাগার’। চার মাস পরের ২০২১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে উদ্বোধন করা এ গণগ্রন্থাগারটি। ২০২৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের ষোলশহরে ‘সাহিত্যঘর গণগ্রন্থাগার’ এর আরও একটি শাখা প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ তিন বছরে সাহিত্যঘর গণগ্রন্থাগারের বইয়ের সংখ্যা দুই হাজারেরও বেশি, শতাধিক পাঠক। প্রতিদিন একটি করে জাতীয় দৈনিক ও দুইটি স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা গণগ্রন্থাগারে রাখা হয়। গণগ্রন্থাগারে বসে যে কেউ বই ও পত্রিকা পড়তে পারেন। দাবা খেলতে পারেন নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। নির্ধারিত নিয়মে বাড়িতে পাঠকরা বই নিয়ে যেতে পারেন। গতকাল শনিবার (১৪ অক্টোবর) রামুতে সাহিত্যঘর গণগ্রন্থাগারের তৃতীয় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে সাহিত্যঘর গণগ্রন্থাগারের প্রতিষ্ঠাতা ও কার্যনির্বাহী পরিষদ সভাপতি রিমন বড়ুয়া এ কথা বলেন।
কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার মেরংলোয়া গ্রামে প্রতিষ্ঠিত সাহিত্যঘর গণগ্রন্থাগারের তৃতীয় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজন করা হয়, শিশু-কিশোরদের বইপড়া প্রতিযোগিতা। রামুর অগ্রযাত্রা কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থীরা বইপড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। সাহিত্যঘর গণগ্রন্থাগারের উদ্যোগে ও ইয়ুথ পজিশন বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় বইপড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সবাইকে পেন্সিল, রাবার ও শার্পনার পুরস্কার দেয়া হয়। এ আয়োজনের দায়িত্বে ছিলেন, অগ্রযাত্রা কোচিং সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও সাহিত্যঘর গণগ্রন্থাগার কার্যনির্বাহী পরিষদ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুমন্ত বড়ুয়া।
সাহিত্যঘর গণগ্রন্থাগারের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি রিমন বড়ুয়া জানান, ছোটবেলায় বইপড়ার শখ থেকে পাঠাগার প্রতিষ্ঠার স্বপ্নযাত্রা। ২০২০ সালের মার্চ মাসে বিশ্ব মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। গৃহবন্দী হয়ে জুন মাসে ফেইসবুকে একটি পেইজ শুরু করি। শুরুতে অনলাইনে বাবা দিবস উদযাপন। সেপ্টেম্বরে জলবায়ু ধর্মঘট ও বৃক্ষরোপণ। এতেই কার্যক্রমের নতুন মোড়। গণগ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করবো। চিন্তাটা জানান দিতেই আমার বন্ধুরা এগিয়ে আসে। লকডাউনে মানসিক স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কিশোর-কিশোরীরা মোবাইল ফোনে আসক্ত হয়ে পড়ছে। নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় হচ্ছে। এ থেকে প্রতিকার পেতে হলে প্রয়োজন, মানসম্মত বিনোদন। যার মাধ্যমে সময় কাটানো যাবে। বই হচ্ছে সর্বোত্তম হাতিয়ার আর গ্রন্থাগার তার উপযুক্ত স্থান। রামুর বইপ্রেমীরা পাবেন বইয়ের দুনিয়া। বই নিয়ে কথা হবে, সমালোচনা হবে। বইয়ের আলোয় শিখবেন। সাহিত্য প্রবাহিত হবে।
সাহিত্যঘর গণগ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে রিমন বড়ুয়া বলেন, নিজের দশটা বই নিয়ে যাত্রা শুরু। ২০২০ সালের ১৪ অক্টোবর খোলা হয় ফেইসবুক পেইজ ‘আমার পাঠাগার’। ম্যাসেঞ্জারে সদস্য সংগ্রহ করা, বাড়ি বাড়ি গিয়ে বই দিয়ে আসা। পড়া শেষ হলে আবার বই নিয়ে আসা। এভাবেই গণগ্রন্থাগারের সূচনাযাত্রা। আশা এবং সাহসে যাত্রা আরও দীর্ঘ হয়। বরেণ্য লেখক হুমায়ূন আহমেদের ৭২তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হয়, তাঁর লেখা বই পড়ে এবং ৭২ টি গাছ রোপণ করে।
‘আমার পাঠাগার’ নাম পরিবর্তনে হয় ‘সাহিত্যঘর গণগ্রন্থাগার। ২০২১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ফেইসবুক পেইজ থেকে প্রাতিষ্ঠানিকতায় উদ্বোধন করা হয়। রামুর মেরংলোয়া গ্রামে, রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারের পশ্চিম পাশে প্রতিষ্ঠা লাভ করে ‘সাহিত্যঘর গণগ্রন্থাগার’। নিজ পকেট খরচের টাকায়, স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষক ও চাকরিজীবী আমাদের সহায়তা দেন। পরিচালিত হয় ‘ইয়ুথ পজিশন বাংলাদেশ’ নামের আমাদের একটি অলাভজনক সংগঠনের তত্ত্বাবধানে। পাঠ চর্চা হয় বাঁকখালী নদীর তীরে, ৩০০ বছরের পুরোনো লাওয়ে জাদির চূড়ায়, রামু খিজারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে।
‘সাহিত্য প্রবাহিত হোক, পৃথিবী বইয়ের হোক” এই স্লোগানে রামু ‘সাহিত্যঘর গণগ্রন্থাগার’ অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রাখছেন, রফিকুল ইসলাম সাঈদী, মেহেদী হাসান, সজীব বড়ুয়া, সুবি বড়ুয়া, অভিপ্সা বড়ুয়া মেঘলা, তামান্না আলম, তাহিয়ান কামাল, মোবারক হোসেন, মুশফিকুল ইসলাম সিফাত, আরজিনা নেওয়াজ মাহি, এছেন রাখাইন, বৃষ্টি বড়ুয়া, অতন্দ্রীলা বড়ুয়া রিয়া, কলি বড়ুয়া, মোঃ মোরশেদ, মাইমুনা মাহমুদ, বিজয় বড়ুয়া ও সুমন্ত বড়ুয়া।







