হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী :
আদিবাসী অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ ঘোষণাপত্রের এক দশকেও তার বাস্তবায়ন না হওয়া দু:খজনক উল্লেখ করে-রাষ্ট্রীয়ভাবে আদিবাসী হিসাবে স্বীকৃতি এবং শিক্ষা, ভূমি ও জীবনের অধিকারের দাবি পুর্নব্যক্ত করেছেন আদিবাসীরা। এ বিষয়ে সরকার নীরব বলেও অভিযোগ তাঁদের।
আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে বুধবার(৯ আগস্ট) বেলা ১২টায় বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সদরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা ওঠে আসে। অনুষ্ঠানে আদিবাসী নেতা মংনু মার্মা বলেন, সরকার ও প্রশাসন আদিবাসীদের অধিকারের প্রশ্নে আন্তরিক নয়। তাই আমাদের সবাইকে নিজের প্রয়োজনেই সংগ্রামী হতে হবে। সংগ্রাম করেই বেঁচে থাকতে হবে।
মংমং মার্মা নামের আরেক আদিবাসী নেতা বলেন, কোন জনগোষ্ঠীর অধিকার হরণ করে কোন রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না। সে রাষ্ট্রটি মাথা উঁচু করেও দাঁড়াতে পারে না। শুধু ভূমি নিষ্পত্তি আইন করেই আদিবাসী সমস্যা সামাধান করা যাবে না। আইনটির যথাযথ প্রয়োগ থাকতে হবে।
চিংসামাং কার্বারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন-নিউহ্লামং মার্মা, সুমেন তংচঙ্গা, থোয়াই ক্যচিং মার্মা, উসাইমং মার্মা, উচেচিং তংচঙ্গা, সুনন্দ তংচঙ্গা প্রমূখ।
আলোচনা সভার আগে উপজেলা সদরের ধুংরিহেডম্যান পাড়া থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রায় নিজেদের দাবি-সংবলিত নানা ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন বহন করে আগত আদিবাসীরা। এসব দাবির মধ্যে আছে, আদিবাসীদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা, মাতৃভাষায় প্রাথমিক পর্যায় পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রমের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, আদিবাসীদের ঐতিহ্যগত ও ভূমি অধিকার কার্যকর, ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন ও সংবিধান সংশোধন করে আদিবাসীদের আত্মপরিচয় ও অধিকারের স্বীকৃতি প্রদানের দাবি।









