হ্লাছোহ্রী মার্মা, রোয়াংছড়ি :
বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলায় মহিলা ফোরাম সভানেত্রী ও উপজেলায় পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মাউসাং মারমা বলেন, পূর্বে থেকে আদিবাসীরা ছিল বলেই ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পেরেছে। আজ আমরা গর্ববোধ করে বলতে পারি,কেন আদিবাসী বলে পরিচয় দিতে পারব না? আর্ন্তজাতিক আদিবাসী দিবস হিসেবে জাতিসংঘ ঘোষণাপত্রের এক দশক পুর্ণ হয়েছে। তাই আমরা আদিবাসী অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ ঘোষণা বাস্তবায়ন চাই।
রোয়াংছড়ি উপজেলায় আদিবাসী ফোরাম কর্তৃক আয়োজিত আদিবাসী দিবস উপলক্ষে নানা আয়োজনে মধ্যদিয়ে প্রথমে রোয়াংছড়ি কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহার সংলগ্ন প্রাঙ্গন থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে মিলিত হয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত আদিবাসী দিবস কর্মসূচি পালন অনুষ্ঠানে ৩৪৯ নং ঘেরাউ মৌজ হেডম্যান শৈসাঅং মারমা সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোয়াংছড়ি উপজেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মাউসাং মারমা।
বিশেষ অতিথি হিসিবে উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান ক্যসাইনু মারমা, রোয়াংছড়ি সদর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান অংশৈমং মারমা,আলেক্ষ্যং ইউপির চেয়ারম্যান বিশ্বনাথ তঞ্চঙ্গ্যা,আলেক্ষ্যং ইউপির ৯নং ওয়ার্ডে মেম্বার ভারতসেন তঞ্চঙ্গ্যা এবং প্রধান আলোচক হিসেবে ছিলেন বান্দরবান জেলা প্রথম আলো সাংবাদিক বুদ্ধজ্যোতি চাকমা।
এই দিবসটি উপলক্ষে ত্রিপুরা কল্যাণ এসোসিয়েশনে সভাপতি ধীরেন ত্রিপুরার সঞ্চালনায় আলোচক বুদ্ধজ্যোতি চাকমা বলেন আদিবাসী বিষয়ক অধিকার জাতিসংঘে ঘোষিতানুযায়ী আজ এক দশক পূর্ণ হয়েছে। ক্ষুদ্র জাতিসত্তা আগে থেকে আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার কথা ছিল কারণ তারা আদিকাল থেকে বংশ পরম্পরা বাস করে আসছে। কিন্তু সরকার আদিবাসী অধিকারকে বঞ্চিত করে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন অন্যতম সমাজ সেবক ভারতসেন তঞ্চঙ্গ্যা,মারমা আদিবাসী ফোরামের সভাপতি মেহ্লাঅং মারমা, বম এসোসিয়েশনের সভাপতি রামময় বম,তঞ্চঙ্গ্যা এসোসিয়েশনের সভাপতি অনিক তঞ্চঙ্গ্যা প্রমুখ।
সভা শেষে বান্দরবানে বসবাসরত আদিবাসী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করে মনোজ্ঞ নৃত্য ও গান পরিবেশন করা হয়।







