নিজের প্রথম ওভারেই শিকার ধরলেন সানজিদ মজুমদার। পরে আরও তিন উইকেট নিলেন বাঁহাতি স্পিনার। দক্ষিণ আফ্রিকাকে দেড়শর আগে গুটিয়ে দিতে বল হাতে অবদান রাখলেন সামিউন বাশারও। এরপর রান তাড়ায় বাংলাদেশ যখন ভীষণ চাপে, ব্যাট হাতে ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন তিনি। আগ্রাসী ফিফটিতে ফিরলেন দলের জয় সঙ্গে নিয়ে।
ত্রিদেশীয় যুব ওয়ানডে সিরিজে বুধবার ৫ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষকে ১৪৭ রানে থামিয়ে ১২৩ বল আগে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় তারা।
দক্ষিণ আফ্রিকা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে ১ উইকেটের রোমাঞ্চকর জয় দিয়েই সিরিজটি শুরু করেছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। দলটির বিপক্ষে দ্বিতীয় দেখায় অবশ্য পেরে ওঠেনি তারা। সেই ধাক্কা সামলে এবার ফের পেল জয়ের স্বাদ।
শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়েও মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকা।
সামিউনের কৃতিত্বে আসরে দক্ষিণ আফ্রিকাকে প্রথমবার হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এবারও দলের জয়ের নায়ক তিনি। বাঁহাতি স্পিনে ২ উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতে করেন ৫২ রান। তার ৩৬ বলের বিস্ফোরক ইনিংসটি সাজানো ৩ ছক্কা ও ৬টি চারে।
অবদান কম নয় সানজিদেরও। ৩৯ রানে ৪ উইকেট নিয়ে দলের সেরা বোলার তিনি। পেসার আল ফাহাদ ধরেন ২ শিকার। একটি করে প্রাপ্তি ইকবাল হোসেন ও রিজান হোসেনের।
হারারেতে টস জিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে চেপে ধরে বাংলাদেশ। ৪৫ রানেই প্রতিপক্ষের ৪ উইকেট তুলে নেয় তারা। বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান ইউরিখ ফন স্কালভিককে কট বিহাইন্ড করে সুরটা বেঁধে দেন ইকবাল। পরে আল ফাহাদ একটি ও সানজিদ ধরেন তিন শিকার।
ব্যাটিংয়ের এই বিপর্যয় থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট নিয়ে তাদেরকে বেঁধে রাখেন বাংলাদেশের বোলাররা।
প্রোটিয়াদের হয়ে ৫ চারে সর্বোচ্চ ৩৯ রান করেন আট নম্বরে নামা মাবাথা। ৩০ ছুঁতে পারেন আর কেবল একজন, পল জেমস (৪ চারে ৩৩)।
দুর্দান্ত বোলিং পারফরম্যান্সের পর ব্যাটিংয়ে দুঃস্বপ্নের মতো শুরু করে বাংলাদেশ। ৬৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। জাওয়াদ আবরার, অধিনায়ক আজিজুল হাকিম, রিজান হোসেন ও কালিম সিদ্দিকি যেতে পারেননি দুই অঙ্কে। সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মাঝে এক প্রান্তে দারুণ ব্যাটিংয়ে ১ ছক্কা ও ৫টি চারে ৪৭ বলে ৪৩ রান করে ফেরেন রিফাত বেগ।
খাদের কিনার থেকে দলকে টেনে তোলেন সামিউন। তাকে চমৎকার সঙ্গ দেন মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। তাদের ব্যাটে লক্ষ্যের দিকে এগোতে থাকে বাংলাদেশ।
একপ্রান্তে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে রান বাড়ান সামিউন। আরেকপ্রান্তে আবদুল্লাহ ছিলেন সাবধানী। মাবাথাকে টানা দুই চার মারা সামিউন একটি ছক্কা ও দুটি চার হাঁকান সোনিকে। মাজোলার পর কিতশিনিকেও ছক্কায় ওড়ান তিনি।
৩৪ বলে ফিফটিতে পা রাখেন সামিউন। ৩০তম ওভারে তার ব্যাট থেকেই আসে বাংলাদেশের জয়সূচক রানটি। সামিউনের সঙ্গে ৮০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়া আবদুল্লাহ ২ চারে ৪৭ বলে করেন ২০ রান।
প্রাথমিক পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে আগামী শুক্রবার জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। রোববার মাঠে গড়াবে ফাইনাল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
দক্ষিণ আফ্রিকা অনূর্ধ্ব-১৯ দল: ৩৭.২ ওভারে ১৪৭ (ফন স্কালভিক ৫, লাগাডিন ১৬, রোলেস ৪, ফিরি ১, জেমস ৩৩, বসম্যান ৮, প্রিটোরিয়াস ১৮, মাবাথা ৩৯, সোনি ৮, কিতশিনি ০, মাজোলা ৫*; ফাহাদ ৮-৩-২০-২, ইকবাল ২-০-১১-১, সানজিদ ৮-০-৩৯-৪, রিজান ৬-০-২৫-১, আজিজুল ৩-০-১৬-০, সাধিন্ন ৪-১-১২-০, সামিউন ৬.২-০-২৩-২)
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল: ২৯.৩ ওভারে ১৪৮/৫ (জাওয়াদ ৩, রিফাত ৪৩, আজিজুল ৭, রিজান ১, কালাম ৬, আবদুল্লাহ ২০, সামিউন ৫২; সোনি ৮-১-৫৬-০, মাজোলা ১০-১-২৯-৪, মাবাথা ৫-০-১৮-০, জেমস ৪-০-২৩-১, রোলেস ১-০-৪-০, কিতশিনি ১-০-৭-০, বোসম্যান ০.৩-০-২-০)
বিডিনিউজ







