হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী :
চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে নিহত নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারি ইউনিয়নের যৌথখামারপাড়ার জঙ্গি দম্পতি ও তাদের শিশুর পরিচয় সনাক্ত করলেও লাশ নিতে চায় না পরিবার। নিহত দুজন হলেন কামাল হোসেন ও তাঁর স্ত্রী জুবাইরা ইয়াসমিন। কামালের বাবা মোজাফফর আহম্মদ মুঠোফোনে বলেন, ‘জঙ্গিকাজে জড়ানোয় কামাল আমার ছেলে নয়। তাকে ঘৃণা করি। তার লাশ নেব না।’
জুবাইরার বাবা নুরুল আলম বলেন, ‘তারা যে কাজটি করেছে, এটা মন থেকে ঘৃণা করি। তাই তাদের লাশ নেব না। এমনকি শিশুটির লাশও নেবেন না বলেও জানান।’ জোবাইরার বড় ভাই জিয়াবুল হক বলেন, ‘তারা যে কাজটা করেছে মন থেকে ঘৃণা করছি। তাদের লাশ দাফন করতে গিয়ে এলাকার মানুষকে পোড়া মূখ দেখাতে চাই না।’
ভুয়া একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিয়ে গত জানুয়ারি মাসে কক্সবাজারের রামুর মো. জসিম উদ্দিন পরিচয়ে সীতাকুন্ড পৌরসভার প্রেমতলার ‘ছায়ানীড়’ বাড়ির নিচতলার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেয় জঙ্গিরা। এরপর ফেব্রæয়ারি মাসের শেষ দিকে জসিম উদ্দিন পরিচয়ে প্রেমতলা থেকে এক কিলোমিটার দূরে আমিরাবাদের ‘সাধন কুটির’ নামের বাড়ির ফ্ল্যাটটিও ভাড়া নেওয়া হয়।
ছায়ানীড়ের বাড়িতে গত বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশের সোয়াটের (স্পেশাল উইপনস অ্যান্ড ট্যাকটিকস) অভিযানের সময় আত্মঘাতী বিস্ফোরণে ও গুলিতে নিহত হয় পাঁচজন। তাদের মধ্যে দুজন হলেন বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী এলাকার বাসিন্দা কামাল হোসেন ও তার স্ত্রী জুবাইরা ইয়াসমিন। অভিযান শেষে বাড়ির ছাদ থেকে তাদের শিশুসন্তানের লাশও উদ্ধার করে পুলিশ। অন্যদিকে, সাধন কুটিরে গত বুধবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে অক্ষত অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয় আরেক জঙ্গি দম্পতি জসিম ও আরজিনাকে। পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, জসিমের বোনই জুবাইরা ইয়াসমিন। আর জসিম ও আরজিনা দুটোই ছদ্মনাম।







