হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী:
কক্সবাজারের নবাগত জেলা রেজিস্ট্রার এ.কে.এম রায়হান মন্ডলের ঘুষ, দুর্ণীতি ও অনিয়মের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দিয়েছে চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নের জনৈক আহসান হাবিব। সম্প্রতি ডাকযোগে তিনি এই অভিযোগ দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলা রেজিস্ট্রারের মাসোহারা পরিশোধ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন জেলার সাব-রেজিসস্ট্রারগণ। আর সাব-রেজিস্ট্রারদের বাড়তি চাহিদার চাপে বিপাকে জেলার দলিল লেখকেরা। কাজিদের কাছ থেকে তিনি উৎকোচ আদায় করছেন নিয়মিত। যার প্রভাব পড়ছে সর্বমহলে।
এদিকে দুদুকে দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে-টাকা পেলে জেলা রেজিস্ট্রার রায়হান মন্ডল দিনকে রাতও বানাতে পারেন! অবৈধভাবে লাভবান হওয়ায় তিনি চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার ২০টির অধিক ইউনিয়নের শৃণ্য এলাকায় ১২০ দিনের অতিরিক্ত মেয়াদ শেষ হলেও নতুন নিকাহ্ রেজিস্ট্রার নিয়োগে বাধাগ্রস্থ করছেন। কিন্তু দুলাখ টাকা পাওয়া মাত্রই একজনের অতিরিক্ত দায়িত্ব হঠাৎ কেড়ে নিয়ে অন্যজনকে দিয়েছে। এ ঘটনায় হতভাক হয়েছেন নিকাহ্ রেজিস্ট্রারগণ।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে-কক্সবাজারে তিনি যোগদানের পর থেকে কাজিদের অডিটের বখশিস দুই থেকে বিশ হাজারে উন্নীত হয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন উপজেলায় কাজিদের অর্ধবার্ষিকী অডিটের নামে জিম্মি করে বিশ হাজার এবং ক্ষেত্র বিশেষে পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন তিনি। এসব কারণে তাঁর বিরুদ্ধে নিকাহ্ রেজিস্ট্রারদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়গুলো গোপনে তদন্ত করা হলে অবশ্যই থলের বেড়াল বেরিয়ে আসবে।
জানতে চাইলে চকরিয়ার হারবাং ইউনিয়নের নিকাহ্ রেজিস্ট্রার কাজী শোয়াইব বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন হারবাং এর পাশাপাশি বরইতলি ইউনিয়নেরও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতাম। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আমাকে না বলে বরইতলিতে অন্য একজনকে জেলা রেজিস্ট্রার স্যার নিয়োগ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে টাকা নিয়েছেন কিনা সেটা তিনিই ভালো জানেন।’
মহেশখালী উপজেলার প্রবীন দুজন নিকাহ্ রেজিস্ট্রার বলেন, ‘বড় অংকের ঘুষের টাকা না পেলে বর্তমান জেলা রেজিস্ট্রার অডিট রিসিভ করেন না। এটা খুব দু:খজনক। আগে কক্সবাজার জেলায় এ ধরণের ঘটনা ঘটেনি। এ ব্যাপারে তাঁরা দুদুক’সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।’
ওই অভিযোগের বিষয়ে নানাভাবে চেষ্টা করেও অভিযুক্ত জেলা রেজিস্ট্রার এ.কে.এম রায়হান মন্ডলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে গুরুত্ব সহকারে প্রচার করা হবে।






