আজ শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা। দেশব্যাপী বৌদ্ধরা নানান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করবেন আজ।
বিশেষ করে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন উপলক্ষে প্রত্যেক বিহারে বিহারে বুদ্ধপূজা দান, অষ্টশীল গ্রহণ, ধর্মীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বিহার আলোকসজ্জ্বা, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, ধর্মালোচনা সভা, ফানুস উত্তোলন এবং দেশ ও বিশ্বশান্তি কামনায় সমবেত উপাসনাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়ে থাকে।
উল্লেখ্য, বুদ্ধ যুগে চার মাসে এক ঋতু গণনা করা হত। তাই আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত এই চার মাস সময় বৌদ্ধ পরিভাষায় বর্ষা ঋতু বলা হয়। এই বর্ষা ঋতু প্রবারণা উদযাপনের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। আশ্বিনী পূর্ণিমার অপর নাম প্রবারণা পূর্ণিমা। প্রবারণা মূলত ভিক্ষু সংঘের একটি বিনয়-কর্মের নাম।
বুদ্ধের সময় শত শত এমনকি হাজার হাজার ভিক্ষু সংঘ একই স্থানে একসঙ্গে অবস্থান করে ধর্ম ও বিনয় শিক্ষা করতেন। একত্রে অবস্থানকালীন ভুল-ত্রুটি হতে পারে এই চেতনা থেকে প্রবারণা উদযাপন করেন বৌদ্ধ ভিক্ষুরা। বলা যায়, প্রবারণা মানে ভুল-ত্রুটির নির্দেশ। আশার তৃপ্তি, অভিলাষ পূরণ ও ধ্যানশিক্ষা সমাপ্তি। সকল প্রকার ভেদাভেদ, গ্লানি ভুলে গিয়ে কলুষমুক্ত হওয়ার জন্য ভিক্ষুসংঘ পবিত্র সীমা ঘরে সম্মিলিত হয়ে একে অপরের নিকট ভুল স্বীকার করে, ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকলে তার জন্য পরস্পরের প্রতি ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
‘প্রবারণা’ শব্দের পালি আভিধানিক অর্থ নিমন্ত্রণ, আহ্বান, মিনতি, অনুরোধ, নিষেধ, ত্যাগ, শেষ, সমাপ্তি, ভিক্ষুদের বর্ষাবাস পরিসমাপ্তি, বর্ষাবাস ত্যাগ, বর্ষাবাস ত্যাগের কার্য অথবা শিষ্টাচার, বিধি, তৃপ্তি বা সন্তুষ্টির বিষয়, ক্ষতিপূরণ, প্রায়শ্চিত্ত, ঋণ পরিশোধ প্রভৃতি। বর্ষাবাস সমাপনান্তে ভিক্ষুগণ তাঁদের দোষত্রুটি অপর ভিক্ষুগণের নিকট প্রকাশ করে তার প্রায়শ্চিত্ত বিধানের আহ্বান জানান। এমনকি অজ্ঞাতসারে কোনো অপরাধ হয়ে থাকলে তার জন্যও ক্ষমা প্রার্থনা করা— এটিই হলো প্রবারণার মূল কথা।







